বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/১৮৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮২
রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প

হয়েচে। গবর্মেণ্টের কাজে আমার বেশ সুখ্যাতি ও সম্ভ্রম ছিল, আমার পক্ষে ইংরেজ-বিদ্বেষ অকৃতজ্ঞতার পরিচয়। আমার স্পীচের ভাষা সংযত হ’লেও অত্যন্ত নিন্দনীয়।

 তার পর দিন গবর্ণরের প্রাইভেট সেক্রেটারীর কাছ থেকে এক চিঠি। তিনি লিখচেন—মাই ডিয়ার রায়-বাহাদুর, কাল সকাল বেলা সাড়ে দশটার সময় অনুগ্রহ করে’ আমার সঙ্গে দেখা কর্‌বে।

 এ কথাটা কি সকলের জানা আছে যে, উপাধিপ্রাপ্ত দেশী লোকদের চিঠি লেখবার বেলা ইংরেজরা শুধু উপাধিটাই লেখেন—নাম লেখেন না? উপাধিতে নামটা চাপা পড়ে’ যায়, আর যাঁরা এ-রকম চিঠি পান তাঁরা আপ্যায়িত হন। রায়-বাহাদুর কি খাঁবাহাদুর হ’লে কি বাপ-মায়ের রাখা নামটা লোপ পেয়ে যায়? ইংরেজি উপাধির বেলা এ-রকম সম্বোধন কর্‌বার প্রথা নেই, নাইট্‌ হ’লে তাকে সর নাইট্ বলে’ কেউ চিঠি লেখে না। নাম বাদ দিয়ে শুধু উপাধি লেখা যে বিসদৃশ, সেটা এইবার আমার চোখে ঠেক্‌ল।

 নির্দ্ধারিত সময়ের কিছু পূর্ব্বে গবর্মেণ্ট হাউসে হাজির হ’লেম। প্রাইভেট সেক্রেটারীর বাবু আমাকে দেখে কিছু তাচ্ছিল্যভাবে হেসে বল্‌লেন, কি রায়-বাহাদুর, আপনি না কি নতুন দলের চাঁই হয়েছেন?

 আমি কিছু রুক্ষভাবে বল্‌লুম,—তাতে দোষ কি?

 —জলে বাস করে’ কি কুমীরের সঙ্গে ঝগড়া পোষায়?

 —জলটা কি কুমীরের?

 এমন সময় লাল চাপকান-পরা চাপরাসী এসে বল্‌লে, সাহের সলাম দিয়া।

 গেলুম সাহেবের কাছে। সাহেব বল্‌লেন, গুড মর্ণিং, রায়-বাহাদুর, বসো।