বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/১৯০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮৪
রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প

 এই রকম পাঁচ রকম ভাবনায় মনটা খারাপ হ’য়ে গেল। বাড়ীতে ফিরে বিকেল বেলা জলখাবার খাচ্চি, এমন সময় গৃহিণী বল্‌লেন, এ বয়সে তোমার আবার এ কি বুদ্ধি হ’ল?

 —কি বুদ্ধি?

 —এই হই হই করে’ কতকগুলো পাগলের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো?

 —দেশের উন্নতি কর্‌বার চেষ্টা কি পাগলামি?

 —তা নয় ত কি? ইংরেজের সঙ্গে কি তোমরা পার্‌বে? আর তুমি চিরকাল ইংরেজের চাকরী করে’ এসেচ, তুমি কোন্ মুখে তাদের বাদ সাধতে যাও?

 —ইংরেজ ত আর ঘর থেকে আমাকে মাইনে দেয়নি, আমাদের দেশের টাকা আমাদের দেয়। আর দেশের সব টাকা তারা যে ঝেঁটিয়ে নিয়ে যাচ্চে।

 এতদিন ত সে-কথা তোমার মনে পড়েনি। এরি মধ্যে তোমার ভীমরতি হয়েচে। কোন্ দিন তোমায় ধরে’ জেলে নিয়ে যাবে।

 —তা যায় যাবে। দেশের কত বড় বড় লোককে নিয়ে গিয়েচে।

 —তা হ’লে জেলে গিয়ে জাঁতা পিষে তুমিও এইবার বড়লোক হবে।

 মুখ আমাকেই বন্ধ কর্‌তে হ’ল, কারণ গৃহিণীর মুখ বন্ধ হবার কোন সম্ভাবনা ছিল না। বাহিরের ঘরে বসে ভাবতে লাগলুম, পেট্রিয়ট হওয়া বড় দুরূহ ব্যাপার। এখন পর্য্যন্ত ত কিছুই করিনি, একটা স্পীচ, তাও ফুলঝুরির মতন, তাতে তুবড়ি হাউইয়ের মতো আতসবাজি মোটেই ছিল না। তাতেই সি-আই-ডির কালো কেতাবে আমার নাম উঠেচে, বাইরে বড় সাহেবের চোখ-রাঙ্গানি, ঘরে ভার্য্যার মুখ