বন্দী
চারিদিকে প্রাচীর, প্রাচীরের বাহিরে কিছু দেখিতে পাওয়া যায় না। মাথার উপর একখণ্ড আকাশ, আকাশে কখন পাখী উড়িয়া যায়, কখন মেঘ ভাসিয়া যায়, দিনের বেলা কিছুক্ষণ সূর্য্য দেখা দেয়, রাত্রে কিছু নক্ষত্র, জ্যোৎস্না রাত্রে কিছুক্ষণ চন্দ্র দেখিতে পাওয়া যায়। প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।
ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
কতক লোকের পায়ে শৃঙ্খল, সকলের মাথার চুল ছোট করিয়া কাটা। কারাগারের মধ্যে আর একটা প্রাচীর, এক ভাগে বন্দীরা শয়ন করে, আর এক ভাগে কাজ করে। জাঁতায় আটা পিষিতেছে, ঘানিতে তেল বাহির করিতেছে। কোথাও শতরঞ্জি, গালিচা প্রস্তুত হইতেছে, কোথাও ছুতারের কাজ। পাকশালায় কয়েকজন বন্দী সকলের জন্য পাক করিতেছে, মোটা অপরিষ্কার চাউল, মোটা আটার রুটী, জলের মত ডাল, অর্দ্ধসিদ্ধ একটা তরকারি। সকল স্থানে কয়েদী ওয়ার্ডার, অপর কয়েদীদের কর্ম্ম পর্য্যবেক্ষণ করিতেছে।
প্রত্যূষে, অন্ধকার থাকিতে ঘণ্টা বাজে, বন্দীদিগকে তাড়াতাড়ি উঠিয়া, প্রাতঃকৃত্য সমাপন করিয়া কাজে যাইতে হয়, দ্বিপ্রহরে আহারের