জন্য এক ঘণ্টা অবকাশ, আবার সন্ধ্যা পর্য্যন্ত কাজ। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বৎসরের পর বৎসর এই রকম চলিয়াছে, কখন বিরাম নাই, কখন কোন পরিবর্ত্তন নাই।
মাঝে মাঝে যাহা নূতন কিছু হয় তাহাতে বন্দীদের ভয় হয়, আনন্দ হয় না। কখন কোন বন্দী আদেশ পালনে আপত্তি করে অথবা কর্ম্মে অবহেলা করে, শাস্তিস্বরূপ বেত্রাঘাতের আদেশ হয়। একটা কাঠের তিনকোণা ফ্রেমে অপরাধীর জামা খুলিয়া তাহাকে বাঁধে, আর একজন কয়েদী তাহাকে বেত মারে। জেলের অধ্যক্ষ ও ডাক্তার দাঁড়াইয়া থাকে, চারিদিকে কয়েদীরা ঘিরিয়া দাঁড়ায়। প্রথম কয়েক ঘা পড়িতে অপরাধী আর্ত্তনাদ করে, তাহার পর চীৎকার করিবার ক্ষমতা থাকে না, মাথা স্কন্ধে হেলিয়া পড়ে, কাতরোক্তি বন্ধ হইয়া আসে। যখন তাহাকে ছাড়িয়া দেয়, কিছুক্ষণ উঠিতে পারে না, তাহার পর হামাগুড়ি দিয়া আস্তে আস্তে চলিয়া যায়।
রাত্রে প্রাচীরের উপর ভরা বন্দুক লইয়া, পায়চারি করিয়া প্রহরীরা পাহারা দেয়, মাঝে মাঝে হাঁকে, অল ওয়েল্! চারিদিক হইতে, চারিটা প্রাচীর হইতে সেই সাড়া আসে, অল ওয়েল্! কদাচ কখন, ভারি রাত্রে মহা কোলাহল উত্থিত হয়, দুমদাম বন্দুকের আওয়াজ, চারিদিকে ছুটাছুটি, চারিদিকে চীৎকার, কয়েদী ভাগা! কয়েদী ভাগা! বন্দীরা তাড়াতাড়ি উঠিয়া বাহিরে আসিয়া কি হইয়াছে জানিতে চায়, অমনি বন্দুকধারী কয়েকজন প্রহরী তাহাদের পথরোধ করে, তাহাদিগকে শয়নকক্ষে প্রবেশ করিতে আদেশ করে। বন্দিগণ মেষের পালের মতন জড়সড় হইয়া কোন্ কয়েদী পলায়ন করিয়াছে তাহাই আলোচনা করে
পলায়ন করিয়া কয়জন কয়েদী রক্ষা পায়? তখনি, না হয়