বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/২০১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বন্দী
১৯৫

 —বাবু কোথায়?

 — বাবু একজনের সঙ্গে দেখা করে’ হয়ত ফিরে আসচে। মোড়ের গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।

 পাহারাওয়ালা, দোকানদার, কালীচরণ বাহিরে আসিয়া চারিদিকে অনেক খুঁজিল, বাবুর কোথাও দেখা পাওয়া গেল না। পাহারাওয়ালা কালীচরণকে গলাধাক্কা দিয়া, গালি দিয়া থানায় লইয়া গেল। দোকানদার থানায় গিয়া লিখাইল, কালীচরণ দোকানে একা আসিয়াছিল, তাহার সঙ্গে কোন বাবু ছিল না।

 পুলিশের লোক কালীচরণকে সঙ্গে করিয়া যখন বাবুদের বাসায় গেল, তখন বাসা খালি, পাখী উড়িয়া গিয়াছে। ঘরগুলায় চারিদিকে তচনচ্ হইয়া আছে, যাহারা ছিল তাহাদের বড় তাড়া, বর্গীর ভয়ে যেমন ঘর-দুয়ার ছাড়িয়া লোকে পলায়ন করিত সেই রকম পলায়ন করিয়াছে।

 দেখিয়া শুনিয়া ইন্সপেক্টর বলিল,—এর সঙ্গে আরও লোক আছে, তারা সব ফেরার।

 অনুসন্ধানে কালীচরণের যথার্থ পরিচয় পাইতে বিলম্ব হইল না। সে যেমন জানিত তাহাই বলিল,—কিন্তু সে কতটুকু? সাক্ষীর বেলা বিশ পঁচিশ জন দোকানদার, মুদী, পসারী তাহাকে সনাক্ত করিল। সকলেই এক বাক্যে বলিল,—এ ব্যক্তি নোট ছাড়া কখন টাকা আনিত না, সব নতুন নোট, আর পরে জানা গেল সব জাল।

 ইন্সপেক্টর কালীচরণকে জুতার ঠোক্কর মারিয়া বলিল,—শালা, ঝানু, বোকা সেজেচ।

 দায়রার বিচারে কালীচরণের সাত বৎসর মেয়াদ হইল।

 সেই যে পুলিশ কালীচরণকে ধরিয়া লইয়া গিয়াছিল সেই হইতে