আর একজন কয়েদী তাহার পাশে আসিয়া, তাহাকে আঙুলের খোঁচা দিয়া বলিল,—কি রে, কি ভাব্চিস?
কালীচরণের একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস পড়িল। বলিল,—কি আর ভাব্ব?
—এই দেশের কথা?
—তাই ভাবচি।
—চিরকাল এইখানে পচে’ মর্বি? আমরা ক’জন পালাব। তুই আমাদের সঙ্গে যাবি?
—কেমন করে’?
—কেমন করে’ পালাতে হয় জানিস্ নে? পাঁচিল টপ্কে, আবার কেমন করে’। জমাদার আস্চে, এখন আর কথা হবে না, রাত্রে বল্ব।
রাত্রে তাহারা ফিস্ ফিস্ করিয়া পলায়ন করিবার পরামর্শ করিতে লাগিল। কালীচণকে লইয়া পাঁচজন। সব কথা শুনিয়া কালীচরণ বলিল,—তোরা যা, আমার পালাবার ক্ষমতা নেই।
একজন অন্ধকারে কালীচরণের গলা টিপিয়া ধরিল, বলিল,—সব কথা জেনে আমাদের ধরিয়ে দিবি, না? তোকে খুন করে’ আমরা ফাঁসি যাব।
গলা ছাড়িয়া দিলে কালীচরণ হাঁপাইয়া বলিল,—আমাকে দিয়া কোন কথা প্রকাশ হবে না, আমি যেন কোন কথা শুনিনি।
আর চারজন কয়েদী দিন কতক পরে পলায়ন করিল বটে, কিন্তু একজন তখনি প্রহরীর গুলিতে মরিল, বাকি তিনজন কিছুদিন পরে ধরা পড়িল। জেল হইতে পলায়ন করিবার অপরাধে তাহাদের আরও তিন বৎসর করিয়া কারাদণ্ড হইল, পায়ে দিনরাত বেড়ী, অপর কয়েদীদের সঙ্গে মিশিতে পাইত না।