বৎসর দুই জেলে কাটাইবার পর ৩৫১ নম্বর দয়েদী জেলারের কপাচক্ষে পড়িল। চোর ডাকত বদমায়েস লইয়াই জেলে নিত্য কর্ম্ম, কিন্তু ৩৫১ নম্বর সে দলের নয়, ইহার সাজা হওয়া সম্বন্ধে একটা কিছু গলদ আছে! জেলার খাতা খুলিয়া মকদ্দমার সংক্ষিপ্ত নোট পড়িল। ৩৫১ নম্বরকে ডাকিয়া পাঠাইল। সে ঘরে আর কেহ ছিল না।
জেলার বলিল,—কালীচরণ!
কালীচরণ থতমত খাইয়া উত্তর দিতেই ভুলিয়া গেল। এতদিন পরে আবার তাহাকে নাম ধরিয়া ডাকে! এখানে ত কাহারও নাম নাই, যে যার নাম জেলের ফটকের বাহিরে রাখিয়া আসে। তাহাকে নাম ধরিয়া ডাকিতেই যেন জেলের প্রাচীরের ইটের গাঁথনি কোথায় মিলাইয়া গেল, যেন আনন্দ-কোলাহলপূর্ণ মুক্ত সংসার তাহার মনশ্চক্ষে প্রতিভাত হইল, কারাগারের বন্ধন টুটিয়া গেল।
জেলার আবার ডাকিল,—কালীচরণ!
কালীচরণ চমকিয়া বলিয়া উঠিয়া বলিল,—হুজুর, আমার কসুর মাপ হয়, কেমন অন্যমনস্ক হয়েছিলাম।
জেলারের চক্ষু কোমল, মুখে অল্প হাসি। যে ভ্রূকুটি ও গর্জ্জনে কয়েদীদের প্রাণ শুকাইত তাহার কোন চিহ্ন নাই। জেলার বলিল,—জাল নোট ভাঙাইবার জন্য তোমার সাজা হইয়াছিল?
—হাঁ, হুজুর।
—অনেক দোকানে ভাঙাইতে?
—হাঁ, হুজুর।
—তুমি জানিতে সেগুলা জাল নোট?
—না, হুজুর।
—আসল আর জাল নোট চিন্তে পার?