যখন-তখন আসিয়া তাহাদের কাজ দেখিত, অলস বলিয়া তাহাদিগকে তিরস্কার করিত। পাঁচ সাতদিন যাইতেই একদিন কয়েদী দুইজন জেলারের মুখের উপর জবাব করিল। জেলারও তাহাই চায়। প্রত্যেক কয়েদীকে ত্রিশ ঘা বেতের আদেশ হইল।
ডাক্তার আসিয়া কয়েদী দুইজনকে দেখিল। দিব্য হৃষ্টপুষ্ট নীরোগ শরীর, ডাক্তার বেত মারিতে অনুমতি দিল।
জেলার কালীচরণকে ডাকাইয়া পাঠাইল। ৪০৫ নম্বর কয়েদীর কাপড় খুলিয়া তাহাকে ত্রিকোণ কাঠের ফ্রেমে বাঁধিবার উদ্যোগ করিতেছে। পাশে দশ বার গাছা আটি-বাঁধা লম্বা বেত পড়িয়া রহিয়াছে। জেলার কালীচরণকে বলিল,—তুমি ইহাকে বেত মার।
কালীচরণের মুখ শুকাইয়া গেল, তাহার চক্ষু কপালে উঠিল। সে ঢোক গিলিয়া বলিল,—হুজুর, আমি পারব না।
জেলার গর্জ্জন করিয়া উঠিল,—কী! আমার হুকুম শুনবে না?
—হুজুর, হুকুম শোনাই ত আমার কাজ, কিন্তু ওকে আমি বেত মারতে পারব না।
—হুকুম না মানলে তোমাকে বেত খেতে হবে।
—তাই খাব হুজুর, বলিয়া কালীচরণ গায়ের জামা খুলিতে লাগিল।
জেলার হাত তুলিয়া তাহাকে নিষেধ করিল। ঠোঁট কামড়াইয়া বলিল,—আচ্ছা, তোমাকে মারতে হবে না, তুমি এইখানে দাঁড়িয়ে থাক।
কালীচরণ দাঁড়াইয়া রহিল।
জেলার আর একজন বলবান কয়েদীকে বেত মারিতে আদেশ করিল। ৪০৫ নম্বর কয়েদী প্রথম কয়েক ঘা বেত খাইয়া আর্ত্তস্বরে