উজ্জ্বল কান্তি, মাথায় বড় বড় চুল, জটা নয়, দাড়ী-গোঁফ প্রায় পাকা, বড় বড় চোখের কোণে লাল ছড়া, কপালে বিভূতি-তিলক, গলায় রুদ্রাক্ষমালা। আমি যুক্তহস্ত মাথায় ঠেকিয়ে বললাম, নমো নারায়ণ!
সন্ন্যাসী বললেন, এস, এস, এই গাড়ীতে এস। কোথায় যাবে?
আমি বললাম, কাশী যাব।
গাড়াতে উঠে এক ধারে বসতে যাচ্ছি, এমন সময় তিনি নিজের পাশে যায়গা করে’ দিয়ে বললেন, এইখানে ব’স।
আমি বসলে পর বললেন, তোমার বয়স ত বড় অল্প মনে হচ্ছে। এরি মধ্যে এ ভেক?
—গৃহস্থ আশ্রমে তৃপ্তি নাই।
—ভাল ভাল। সাধুকে পরিচয় জিজ্ঞাসা করতে নেই। কাশী এর আগে দেখা হয়েচে?
— আজ্ঞে না, আমার কিছুই দেখা হয় নি, আমি কিছু জানি নে।
—তা হ’লে আমাদের সঙ্গে চল না? আমরাও কাশী যাচ্ছি।
—যদি আপনাদের কোন অসুবিধে না হয়—
—আরে, ও-সব লোক-সমাজের কথা ভুলে যাও। আমাদের আবার সুবিধে অসুবিধে কি? সর্ব্বত্র সমান, আরাম কি কষ্ট, কোন জিনিষই নেই, সব স্থানে দরিদ্র নারায়ণ, সবই লীলাময়ের লীলা। কুণ্ঠা সঙ্কোচ লোকালয়ে, সে-সব আমরা লোকালয়ে রেখে এসেছি।
—কেমন অভ্যাসের দোষ—
—আর বলতে হবে না, অমন সকলেরই নতুন নতুন হয়। তোমার হাতে পুঁথি দেখছি। কিছু পড়া-শোনা আছে?
—যৎসামান্য, বলতে গেলে কিছুই নয়। যদি কোন ভাল গুরুর আশ্রয় পাই, তা হ’লে কিছু পাঠাভ্যাস করি।