বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/২১৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্যারীর মাসী
২০৯

 —নিষ্ঠা থাক্‌লেই পাবে। পুঁথি-পাঁজি ত কত লোকে পড়ে, তাতে কি হয়? কেউ ঘোর দাম্ভিক, কেউ ঘোর নাস্তিক। সদ্‌গুরু কে? সদ্‌গুরু বত্তাওয়ে বাট, যে পথ দেখায়, সেই সদ্‌গুরু। যে পথ চায়, সে পথ পায়; যে সব ছাড়ে, সে সব পায়। সব ছোড়ো তো সব মিলেগা।

 সন্ন্যাসীর কথার বেশ চটক। আর কিছু কথার পর বল্‌লেন, তোমাকে কি ব’লে ডাক্‌ব? বাপ-মায়ের-রাখা নাম জিজ্ঞাসা করছিনে, এ আশ্রমে এসে একটা কিছু নাম হয়েছে ত? আমার নাম বালানন্দ।

 —আমি সুনন্দ ব্রহ্মচারী।

 —বেশ নাম। শ্রীকৃষ্ণের পার্শ্বচর। এই আমাদের যাত্রা ফুরাল।

 মোগলসরাইতে গাড়ী বদলাতে হয় নি, বরাবর রাজঘাট কাশী ষ্টেশনে এসে গাড়ী থাম্‌ল। আমরা গাড়ী থেকে নাম্‌লাম।

 মেয়েদের গাড়ী থেকে একটি স্ত্রীলোক নেমে বালানন্দ স্বামীর কাছে এল। কি আপদ! সন্ন্যাসীর সঙ্গে আবার মেয়েমানুষ কেন? আমার মনে কেমন খট্‌কা লাগল। কথাবার্ত্তায় ত জ্ঞানীর মত, লোকটা বামমার্গী নয় ত? আমি কি করব ভাব্‌ছি, এমন সময় স্ত্রীলোকটি মুখের দিকে চেয়ে দেখ্‌লাম। দেখামাত্র মনের সংশয় ঘুচে গেল।

 গেরুয়া-পরা, শুভ্রকেশী, তেজস্বিনী রমণী। মুখে বার্দ্ধক্যের কোনো চিহ্ন নেই। টানা টানা নাক-চোখ, রং ফরসা, মুখ সুন্দর না হ’লেও তেজে ভরা, চোখের চাউনি তীক্ষ্ণ, তীব্র। বালানন্দ স্বামীর কাছে এসে বল্‌লে,বাবা-ঠাকুর, হেঁটে যাবে?

 —কি দরকার? সারারাত্রি রেলে ভাল ঘুম হয়নি, তোমারও কষ্ট হ’য়ে থাক্‌বে, চল গাড়ী ক’রে যাই।