না বদ্লায়, তা হ’লেও নিজের ত একটা নাম আছে, সেই নামে ডাকে না কেন? অমুকের স্ত্রী, অমুকের মাসী পাড়াগাঁয়ে ব’লে থাকে বটে, কিন্তু সন্ন্যাস আশ্রমেও কি সেই পরিচয় থাক্বে?
আমি ভুরু কুঁচকে ভাব্চি, বালানন্দ স্বামী আমার মুখ চেয়ে হাস্লেন। বল্লেন, তোমার মন গোলোকধাঁধায় ঘুরচে! তুমি প্যারীর মাসীর কথা ভাব্চ, না?
আমি চমকে উঠ্লাম। জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কেমন ক’রে জান্লেন? সন্ন্যাসী হেসে কৌতুক ক’রে বল্লেন, মানুষের মনে ডুব দিয়ে যদি মনের কথা তুল্তে না পারব, তা হ’লে আমার সাধুগিরি কিসের? আর এ ত সোজা কথা প’ড়ে রয়েছে। তোমার মনে হ’তেই পারে যে, সাধু-সন্ন্যাসীর সঙ্গে মেয়েমানুষ কেন? আমি বৈষ্ণব নই যে, বৈষ্ণবী সঙ্গে ক’রে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াব, বামাচারী তান্ত্রিকও নই যে, আমার সঙ্গে অবিদ্যা থাকবে। কথাটা যখন তোমার মনে উঠেচে, তখন প্যারীর মাসীর বিষয়ে তোমার কিছু জেনে রাখা ভাল। ওর বিষয়ে সব কথা আমি নিজে জানিনে, যেটুকু জানি, বল্তে আমার কোনো আপত্তি নেই। প্যারীর মাসী ছাড়া ওর অন্য কোনো নাম আমি কখন শুনিনি। প্যারী কে, তা কিছুই জানিনে, প্যারী বেঁচে আছে কি নেই, তাও বল্তে পারিনে। প্যারীর মাসীকে জিজ্ঞাসা করলে সে কিছু বলে না, পূর্ব্বের কোনো কথা জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করে। ও ডাকনামটা বদ্লে আমি এ আশ্রমের একটা নাম রাখ্তে চাইলাম, তাতে ও রাজি নয়। যখন সংসার ত্যাগ করিনি, আমাদের গ্রামের নিকটে আর একটা গ্রামে প্যারীর মাসী থাকত। একাই ছিল, আপনার লোক কেউ ছিল না। স্বভাব-চরিত্র খুব ভাল, ওর নামে