হৃদয়ে স্তোত্রের বিচিত্র উদার শব্দাবলী ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হ’তে আরম্ভ হ’ল। স্তোত্রের প্রত্যেক শ্লোকের আবৃত্তি শেষে বার বার সেই ধীর গম্ভীর ধ্রুবক—শম্ভু, শম্ভু, শম্ভু, শিব, শিব, শম্ভু!
আরতি শেষ হ’লে আমরা সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলাম। প্যারীর মাসীর চক্ষু ভাবে ঢল্-ঢল্ করছে, জলে ভ’রে এসেছে। আঁচল দিয়ে চক্ষুর জল মুছতে লাগ্ল। মন্দিরের কোণে আর এক জন গালবাদ্য ক’রে, মাথা চালিয়ে কেবলি বল্ছিল, বম্ বম্ ভোলা! বব-বম্ বব-বম্ শিব শঙ্কর ভোলা!
—৩—
বাসায় ফিরে বালানন্দ জপে বস্লেন, আমি হাত-মুখ ধুয়ে আচমন ক’রে সন্ধ্যা করতে গেলাম। ঘণ্টাখানেক পরে প্যারীর মাসী এসে বল্লে, প্রস্তুত। তোমরা এস।
পাশের ঘরে দুখানি কম্বলের আসন পাতা, দুখানি শালপাতে খাবার বাড়া। রুটী আর তরকারি। ব্যঞ্জনের রকম বেশী নয়, কিন্তু পরিপাটী রান্না। খেতে খেতে বালানন্দ স্বামী জিজ্ঞাসা করলেন, কেমন খাচ্ছ? প্যারীর মাসীর রান্না কেমন?
—অমৃত। এমন সুন্দর রান্না কখন খাই নি।
প্যারার মাসী সাম্নে দাঁড়িয়েছিল। বল্লে, যেমন জানি সেই রকম রাঁধি। আর একটু ধোঁকা দেব?
—দাও।
তার পরদিন সকালবেলা আমরা গঙ্গাস্নান করতে গেলাম। স্নান ক’রে ফিরে এসে আমরা বসেছি, প্যারীর মাসী এসে বালানন্দ স্বামীকে দণ্ডবৎ ক’রে প্রণাম করলে। তারপর আমাকেও করতে আসে