ছাড়তে হয়। হ্যাঁ বাছা, তোমার আবার কিন্তু কিসের? কিন্তু থাক্লে বাবাঠাকুর আমাকে তাড়িয়ে দিতেন। পরন্তু আমরা বৃন্দাবন যাব, তুমি যাবে না? তবে একটা কথা বলি। যদি তোমার মনে আর এক ভাব হয়, যদি সব ছেড়ে-ছুড়ে নির্জ্জনে সাধনা করতে চাও, তা হ’লে কেউ তোমায় কোনো বাধা দেবে না। গোবর্দ্ধন বেশ নিরিবিলি জায়গা, সেখানে গুহা আছে, তপস্যা করবার বেশ সুবিধা।
আমার আর কথা কইবার মুখ রইল না। সেখানেই আমার ‘কিন্তুর’ কাশীপ্রাপ্তি হ’ল।
—8—
কৃষ্ণসলিলা কালিন্দীতটে সমৃদ্ধশালিনী মথুরা নগরী। চারিদিকে কোঠা বাড়ী, বিস্তর দোকান-পসার, শেঠেদের বড় অট্টালিকা। পথে লোকের ভিড়,—যাত্রী, ব্যবসায়ী সব চলেচে। আমরা একটা ধর্ম্মশালায় উঠ্লাম।
স্নানাহার ক’রে আমরা বৃন্দাবনে গেলাম। মথুরা-বৃন্দাবনে ধূলো বল্তে নেই, সেখানে পবিত্র রজ, সকলে তুলে মাথায় দিচ্চে, কাপড়ে এক মুঠা ক’রে বেঁধে নিচ্চে। হরিদ্বারে হিন্দুস্থানী যাত্রীরা পানী বল্লে পাণ্ডারা তাদের বুঝিয়ে দেয়, জল বল্তে হয়, পানী বল্লে দোষ হয়। বৃন্দাবনে পুলিন প্রকাণ্ড চড়া, যমুনা খানিক দূরে। কোথায় সে বংশীমুখরিত কুঞ্জ, কোথায় সে পুলকিত রোমাঞ্চিত পুষ্পশোভিত নীপরাজি! কদম্বমূলে ত্রিভঙ্গ মুরলীধারী কোথায়! কোথায় ভাই বলরাম, কোথায় শ্রীদাম সুদাম সুবল মিতা, স্থূলবুদ্ধি সর্ব্বভুক বটু মধুমঙ্গল! কোথায় বৃষভানু-নন্দিনী ব্রজেশ্বরী রাধা, সখী ললিতা বিশাখা চম্পকলতা চিত্রা।