বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/২৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২৬
রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প

তার মুঠোয় হাত দিয়ে মাথা উঁচু ক’রে আস্‌চে, আর সকলে তাকে মাথা নীচু ক’রে দু’হাতে সেলাম কর্‌চে। কি একটা কথা বল্‌লে, আমি ওদের কথা বুঝ্‌তে পারি নে।—এ আবার কোথায় এল, এ ঘর ত কখনো দেখি নি। ঘরের মাঝখানে হাঁটু গেড়ে গাল্‌চের উপর ব’সে সেই লোকটা না? দুই পাশে দাঁড়িয়ে এরা সব কে?

 এ আবার কা’কে নিয়ে এল? দুই হাত বাঁধা, দুই দিকে দুটো যমদূতের মত মিন্‌ষে দাঁড়িয়ে! ও কি করেচে যে, ওকে চোরের মত বেঁধে এনেচে? তবু ভয় কিচ্ছু নেই, চোখ দুটো যেন জ্বল্‌চে! যে ব’সে আছে, সে রেগে-মেগে কি বল্‌চে? হাত বাঁধা থাকলে কি হয়, ও ভয় পাবার মানুষ নয়। বাঁধা হাত নেড়ে জোরে জোরে কেমন জবাব দিচ্চে! যে ব’সে রয়েচে, সে তলোয়ার কোমর থেকে টান্‌ছে—কেটে ফেল্‌বে নাকি? না, তলোয়ারের খাপ দিয়ে ধাঁ ক’রে ওর গালে মারলে। বাপ রে! কি তেজ! বাঁধা হাত দিয়েই খপ্ ক’রে খাপখানা কেড়ে নিলে—তুলে মারে আর কি, আর অম্‌নি সেই দুটো যমদূতের মত লোক তার হাত ধ’রে মুচড়ে খাপখানা কেড়ে নিলে। যে বসেছিল, সে লাফিয়ে উঠে চীৎকার ক’রে কি বল্‌লে, হাত বাড়িয়ে কোথায় দেখিয়ে দিলে। ওকে ধ’রে কোথায় নিয়ে যাচ্চে? যাই, গিয়ে দেখি!

* * * *

 প্যারীর মাসী ধড়মড় ক’রে উঠে বস্‌ল। ঘর থেকে কোথাও বেরিয়ে না যায় ভেবে আমি উঠ্‌তে গেলাম; বালানন্দ স্বামী আমার গায়ে হাত দিয়ে নিষেধ করলেন। আমরা দুই জনেই ত জেগে রয়েচি, আবশ্যক হয়, তখন প্যারীর মাসীকে আট্‌কান যাবে। প্যারীর মাসী উঠে দাঁড়াল না। মুখ আমাদের দিকে, কিন্তু দৃষ্টি স্থির, যেন কোথায়