ঘুমিয়ে পড়্ল। বালানন্দ স্বামী আমার কাণে কাণে অত্যন্ত লঘু স্বরে বল্লেন, তুমি যা শুন্লে, প্যারীর মাসীকে কিছু ব’লো না।
আমি ঘাড় নেড়ে সায় দিলাম।
—৬—
সকালে উঠে বাড়ীর পিছনে একটা পুষ্করিণী ছিল, তাতে আমরা স্নান করলাম। প্রাতঃকৃত্য সমাপন ক’রে স্বামীজী সেই বুড়ো মানুষটিকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, কাছাকাছি কোনো গ্রাম কি সহর আছে?
—আধ ক্রোশ দূরে একটা ছোট গ্রাম আছে। সহর অনেক দূর।
প্যারীর মাসী স্নান-আহ্নিক ক’রে দাঁড়িয়েছিল। স্বামীজী জিজ্ঞাসা করলেন, রাত্রে ঘুম হয়েছিল কেমন?
হেসে প্যারীর মাসী বল্লে, বেশ ঘুম হয়েছিল।
—আমরা কি এখনি বেরিয়ে পড়্ব, না এখান থেকে খাওয়াদাওয়া ক’রে যাব?
—বাবাঠাকুর, কাল রাত্রে তোমাদের খাওয়া হয় নি, এখান থেকে খেয়ে গেলে ভাল হয়। কিন্তু এখানে জিনিষপত্র ত কিছু নেই।
—কাছেই গ্রাম আছে, আমরা সব নিয়ে আস্চি! তুমি ততক্ষণ এদের সঙ্গে কথাবার্ত্তা কও।
—বেশ, তোমরা বাজার ক’রে এস।
পথে যেতে যেতে স্বামীজী বল্লেন, দেখ্লে, কাল রাত্রে প্যারীর মাসী যে-সব কথা বল্ছিল, ওর কিছু মনে নেই। তুমি কিছু বুঝ্তে পার্লে?