বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/২৪১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্যারীর মাসী
২৩৫

আগুন জ্বাল্‌লাম। দেবদারু-কাঠের নির্য্যাস ঘৃতের মত জ্বলে। আগুন দাউ দাউ ক’রে জ্ব’লে উঠ্‌ল। বাকি ডালপালা ভিতরে রইল।

 সঙ্গে কিছু খাবার ছিল, খেয়ে ঝরণার জল পান করা গেল। দিব্য নরম শয্যা, পাহাড়ে সারাদিন হাঁটার শ্রান্তি, বেশ শীত, কম্বল মুড়ি দিয়ে আমাদের ঘুমিয়ে পড়তে বিলম্ব হ’ল না।

—৭—

 আবার সেই রকম! প্যারীর মাসীর কথার সাড়ায় আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে আপনার মনে কথা কইচে। বালানন্দ স্বামী ঘুমিয়েছিলেন, কিন্তু আমি যেই চোখ খুলেছি, অমনি তিনিও জেগে উঠ্‌লেন। আমরা দু’জনে চুপ ক’রে প্যারীর মাসীর কথা শুন্‌তে লাগ্‌লাম।

 সে বল্‌ছিল, ঐ দেখেছ গাছতলায় কে ব’সে রয়েছে! নড়ন-চড়ন নেই, একেবারে স্থির। মুনি-ঋষি কেউ হবে, ব’সে চোখ বুজে ধ্যান করছেন। গা থেকে তেজ ফুটে বেরুচ্চে। কোথাও কিছু শব্দ নেই, চারিদিক একেবারে স্তব্ধ। জন-মনুষ্য নেই, গাছে একটা পাখী পর্য্যন্ত নেই। কেবল বন—বন—বন—গাছের ছায়ায় যেন দিনের বেলাও অন্ধকার ক’রে রয়েচে—

 বনের ভিতর দিয়ে ও দুটো কি আস্‌চে? ভালুক না কি? আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে গুঁড়ি মেরে আস্‌চে। জন্তু নয় ত মানুষ, এইবার উঠে দাঁড়িয়েচে, সাবধানে উঁকি মেরে এ-দিকে ও-দিকে দেখ্‌চে! দু’পা এগোয়, আবার দাঁড়ায়, আর চোখগুলো যেন ভাঁটার মতন ঘুর্‌চে। ধীরে ধীরে, থেমে থেমে, একটুও শব্দ না ক’রে আস্‌চে—আস্‌চে—আস্‌চে—