বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/২৪২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৩৬
রথযাত্রা ও অন্য গল্প

 মুনিকে দেখে থম্‌কে দাঁড়াল! একবার দু’জনে মুখ-চাওয়া-চাওয়ি ক’রে, যিনি ধ্যানে ব’সে আছেন, তাঁর পাশ কাটিয়ে আর এক দিকে গেল। তিনি যেমন ব’সেছিলেন, তেমনি ব’সে আছেন—চোখ বোজা, মাথা সোজা, অঙ্গের গৌরকান্তি থেকে জ্যোতি বেরুচ্চে—একেবারে স্থির, নিশ্বাস পড়চে কি না, বুঝ্‌তে পারা যায় না।

 তিনি যেখানে ব’সে আছেন, তার পিছনে কিছু দূরে একটা গুহা। গুহার মুখের কাছে একটা বড় পাথরের আড়াল থেকে এক একবার উঁকি মারচে—ও কে?

 মেয়েমানুষ! পরমা সুন্দরী, বয়স অল্প। ওর এত ভয় কিসের? ভয়ে চোখ যেন ঠিক্‌রে বেরিয়ে আস্‌চে, মুখ শুকিয়ে গিয়েচে, এক একবার হাঁপাচ্চে, গা ঠক-ঠক ক’রে কাঁপ্‌চে। গুহার ভিতর কোনো জন্তু জানোয়ার নেই ত? তা হ’লে ওখান থেকে পালিয়ে আস্‌চে না কেন?

 আর ঐ দু’জন লোক অমন ক’রে যাচ্চে কেন? ওরাও কি ভয় পেয়েচে? কৈ, ওদের মুখে ত ভয়ের কোনো চিহ্ন নেই। কেবল সাবধান—সাবধান— সাবধান! ওদের পিছনে কি লোক লেগেচে? তা হ’লে এমন ক’রে ঘুরে ঘুরে বেড়াবে কেন? ওরা যেন চোরের মতন উট্‌কে পাট্‌কে কি খুঁজ্‌চে—

 ঐ গো! ওরা মেয়েটিকে দেখতে পেয়েচে, পেয়েই একেবারে সেই দিকে ছুটেচে!

 তারা ছুটে আস্‌চে দেখে মেয়েটি চেঁচিয়ে উঠ্‌ল। স্তব্ধতার বুকে যেন ছুরী বিঁধে গেল। গুহার ভিতর পাহাড়ের গায়-গায় চারিদিকে প্রতিধ্বনিত হ’তে লাগল। সে শব্দে যোগীর ধ্যান ভঙ্গ হ’য়ে গেল,