তিনি চোখ মেলে উঠে দাঁড়ালেন। স্ত্রীলোকটি পাগলের মত ছুটে এসে যোগীর পা আঁকড়ে ধ’রে বল্চে, রক্ষা করুন—রক্ষা করুন!
তিনি আস্তে আস্তে পা ছাড়িয়ে নিয়ে, যুবতীর মাথায় হাত দিয়ে তা’কে অভয় দিলেন।
সে দু’জনও এসে উপস্থিত হ’ল। তারা একেবারে স্ত্রীলোকটিকে ধরতে যায়, যোগী হাত বাড়িয়ে তাদের নিষেধ করলেন। তারা রেগে মেগে তাঁকে ধাক্কা মেরে যেই ফেলে দিতে যাবে, আর অম্নি তাঁর মুখের দিকে চেয়ে তাদের আর পা এগোল না।
যোগী যেমন হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই রকম দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর চক্ষু সেই দুই জন লোকের মুখের দিকে। তারা তাঁর চোখের দিকে চেয়ে রইল, আর চোখ ফেরাতে পারল না।
দেখ, দেখ, যোগীর চক্ষু দেখ! চোখ থেকে যেন আগুনের হল্কা ছুট্চে। মহাদেবের ললাট-নেত্র না কি? এরা কি ভস্ম হ’য়ে যাবে? চোখের কি জ্যোতিঃ! কি দহন-জ্বালা! স্ফুলিঙ্গের পর স্ফুলিঙ্গ, অনল-স্রোতের পর স্রোত—
সে দু’জন লোক ঠিক পাথরের মূর্ত্তির মত দাঁড়িয়ে, মুখে একটি কথা নেই, একটি পা চল্বার শক্তি নেই—একেবারে আড়ষ্ট, নিঃস্পদ, চোখের পাতা পর্য্যন্ত পড়চে না।
যোগী একবার হাত দুলিয়ে আঙ্গুল দিয়ে নীচের দিকে দেখালেন। চক্ষুর দৃষ্টি সহজ হ’য়ে এল, বল্লেন, তোমরা চ’লে যাও, আর কখনো এখানে এস না
তখন তাদের হাত-পায়ে সাড় হ’ল, শুকনো মুখে কাঁপ্তে কাঁপ্তে, কুকুরের মত ল্যাজ গুটিয়ে চ’লে গেল।
এতক্ষণ মেয়েটি চুপ ক’রে এক পাশে দাঁড়িয়েছিল। যোগী