পথে কিছু দূর গিয়ে আমরা দেখ্লাম, একটা সঙ্কীর্ণ পথ উত্তরদিকে চ’লে গিয়েচে। প্যারীর মাসী সেইখানে দাঁড়িয়ে বল্লে, এইবার এই পথ দিয়ে যেতে হবে।
স্বামীজী বল্লেন, এ পথ কোথায় গিয়েছে, আমরাও ত কিছু জানিনে।
—চল না, এই পথ দিয়ে গেলেই আমরা ঠিক যাব।
প্যারীর মাসী সেই পথে চল্ল। স্বামীজী আর কিছু না ব’লে তার পিছনে চল্লেন।
পথ সরু, পগদণ্ডী, দুর্গম। তার পাশেই অত্যন্ত গভীর, প্রশস্ত খড, নীচে চেয়ে দেখ্তে গেলে ভয় করে। অন্য দিন হ’লে প্যারীর মাসী ভয়ে ভয়ে আমাদের পিছনে আস্ত, আজ সে দ্রুত অভ্রান্ত পদক্ষেপে আগে আগে চল্ল, যেন পাহাড়ে ওঠা তার চিরকালের অভ্যাস। আমরা কোনোমতে যথাসাধ্য তার অনুবর্ত্তী হলাম। পাহাড়ের উচ্চতায় ও পথের কঠিনতায় হাঁপ্ লাগ্ছিল।
হিমালয়ের হিমানীমণ্ডিত শৃঙ্গরাজি কিছু দূরে হ’লেও খুব নিকটে মনে হচ্ছিল। অতি-প্রাচীন, শুভ্রশীর্ষ, বিরাটদেহ মৌনী ঋষির মত একের পর আর এক দাঁড়াইয়া আছে। কোনখানে উপত্যকার ন্যায়; সেখানে ঘনবিন্যস্ত ঘনশ্যাম বিশাল তরুরাজির সারি। চারিদিকে বিরাটের সমাবেশ, বিরাট্ গাম্ভীর্য্য, বিরাট্ স্তব্ধতা, বিরাট্ হিমগিরি। মধ্যাহ্নের পর আমরা দেখলাম, পথ পূর্ব্বমুখ হয়েছে। কিছু দূর গিয়ে দেখ্লাম, খডের ভিতর দিয়ে প্রবলবেগে স্রোতস্বতী প্রবাহিত হয়েচে, জল নির্ম্মল হ’লেও তা’তে গাঢ় শ্যাম আভা, পাহাড়ে ঠেকে শুভ্র ফেনা উঠ্ছে। প্যারীর মাসী একবার দাঁড়িয়ে নীচের দিকে চেয়ে বল্লে, কৃষ্ণগঙ্গা।