ক’রে উঠে গিয়ে দরজার শিকল খুলে ঘরে ঢুক্ল। বালানন্দ স্বামী আর আমি বিস্মিত হ’য়ে পরস্পরের মুখের দিকে চেয়ে আস্তে আস্তে তার পশ্চাতে ঘরে প্রবেশ করলাম।
—৯—
ঘরের ভিতর গিয়ে দেখি, এক কোণে একরাশি কাটা কাঠ সাজানো রয়েছে, তার পাশে পাথরের উনান। একটা কুলুঙ্গিতে একটি পিতলের হাঁড়ি আর হাতা, তার পাশে কিছু চাল আর ডাল, একটা পাথরের বাটিতে খানিকটা ঘি, পাতার উপর সব রকম গুঁড়া মসলা, নুণ, একটা ঝুড়িতে আধ ঝুড়ি আলু। আর এক পাশে কতকগুলা শালপাতা।
আমি আশ্চর্য্য হ’য়ে বল্লাম, এ ঘরে নিশ্চয় কেউ থাকে।
কোথাও কিন্তু মানুষের কোনো চিহ্ন নাই। বালানন্দ স্বামী বল্লেন, কেউ থাক্ত, তা ত স্পষ্ট দেখা যাচ্চে, কিন্তু এখন যে কেউ আছে, তা মনে হয় না।
ঘরের আর এক কোণে গাদা–করা খড় রাখা ছিল, প্যারীর মাসী দেখিয়ে দিয়ে বল্লে, এই শোবার বিছানা। এখানে যে থাক্ত, সে এই সব জিনিষ রেখে কোথাও চ’লে গিয়েচে, ভেবেছিল, আর কেউ এখানে এলে তাদের কাজে লাগ্বে।
স্বামীজী বল্লেন, আমারও তাই মনে নিচ্চে। এ-রকম দুর্গম স্থানে কোথাও কোথাও এমন দেখ্তে পাওয়া যায়।
আমি বল্লাম, কে আমাদের এ-রকম আতিথ্যের ব্যবস্থা ক’রে রেখেচেন, তা ত আমরা জানিনে, উদ্দেশে আমরা তাঁর জয়-জয়কার করচি।