দরজায় লোহার শিকল ছিল, শিকল দিয়ে খড়ের উপর আমরা শুয়ে পড়লাম।
আগেকার মত গভীর রাত্রে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। প্যারীর মাসী চোখ চেয়ে রয়েছে, কিন্তু ঘরের ভিতর কিছু দেখ্তে পাচ্ছে না। দৃষ্টি স্থির, যেন দূরে কিছু দেখ্চে। কণ্ঠের স্বর আর এক রকম, যেন অনেক দূর থেকে কথা কইচে। বালানন্দ স্বামীও জেগেচেন। আমরা দু’জনে চুপ ক’রে প্যারীর মাসীর কথা শুন্তে লাগ্লাম।
সে বলছিল, ছায়া! ছায়া! ছায়া! কেবলি ছায়া! কেবলি ছায়ার আনাগোনা। এ কি ছায়ালোক না কি? কোথাও কোনো শব্দ নেই, নিঃশব্দে ছায়া সব ঘুরছে। সব যেন অস্পষ্ট, ছায়ার মত আলো। এত ছায়ার মধ্যে আমি কেন? আমিও কি ছায়া?—
সব যেন আব্ছায়া, আব্ছায়া! কারুর মুখ স্পষ্ট দেখতে পাচ্চিনে। কারুর মুখে কথা নেই, কেউ কারুর সঙ্গে কোনো কথা কইচে না! আমিও যেমন! ছায়াতে কি কথা কইতে পারে? এখানে কি মানুষ নেই, শুধু ছায়া?
ঐ অনেক দূর থেকে যেন একটা সুড়ঙ্গ দিয়ে আলো আস্চে। অল্প গোলাপী আলো, তেমন পরিষ্কার নয়, তার পর আলো বাড়চে— বাড়চে—বাড়চে—
কৈ, আলোয় ত ছায়া মিলিয়ে গেল না! ছায়ার চারিদিকে আলো খেল্চে, আলোর মধ্যে ছায়ার মুখ! এমন সব মুখ ত কখন দেখিনি। পদ্ম-ফুলের মতন সব ফুটে রয়েচে। চোখের কি শান্ত, স্নিগ্ধ, কোমল দৃষ্টি!
ওকে ডাক্চে? ও মা, আমার নাম ধরে ডাক্চে! কমলা! আমার ও নাম ত কেউ জানে না, সবাই ভুলে গিয়েচে। এখানে