ধারণ করিয়া অশ্বারোহণে রাবী নদী পার হইয়া রংমহলে উপনীত হইল। নূতন বৃহৎ বাড়ী, চারিধারে বাগান, শীতকালে বড় বড় চন্দ্রমল্লিকা ফুটিয়া বাগান আলো করিয়া রহিয়াছে, দেশী বিদেশী নানা জাতীয় ফুল, টবে নর্যাস ফুল, বাড়ীর সম্মুখে ঘাসের উপর বাঁধান ফোয়ারা, গাছে হরিতাল ঘুঘু।
ফটক পার হইয়া বাড়ীর সম্মুখে উপস্থিত হইয়া দাউদ ঘোড়া হইতে নামিল। সঙ্গে সহিস আসে নাই। দাউদ একটা গাছে ঘোড়া বাধিবার উপক্রম করিতেছে, এমন সময় এক জন ভৃত্য আসিয়া ঘোড়ার লাগাম ধরিল, বলিল, আমি ঘোড়া ধরিতেছি, আপনি ভিতরে যান।
হাতের চাবুক ভূতাকে দিয়া দাউদ সিঁড়ি উঠিয়া গৃহে প্রবেশ করিল। পাল্কীর সঙ্গে যে লোককে দাউদ দেখিয়াছিল ও যাহার সহিত কিছু কথা হইয়াছিল, সেই ব্যক্তি তাড়াতাড়ি আসিয়া বলিল,—সাহেব, আসুন আসুন, আমরা ভাবিয়াছিলাম, আপনি কালই আসিবেন।
দাউদ কিছু সঙ্কোচের সহিত কহিল,—কাল আসিতে পারি নাই। তোমরা ত এখানে কিছু দিন থাকিবে?
—হাঁ, জনাব। এ বাড়ী এক বৎসরের জন্য ভাড়া করা হইয়াছে।
—এ জায়গাও খুব ভাল। নিকটেই দেখিবার মত জাহাঙ্গীর শাহের ও নূরজাহানের কবর আছে, নিরালা স্থান, এ দিকে লোকজনের অধিক ভীড় নাই।
—এ বাড়ী দেখিয়া শুনিয়া ভাড়া করা হইয়াছে। সাহদরা আমরা দেখিয়া আসিয়াছি।
পুরাতন ভৃত্য, দাউদকে লইয়া গিয়া আর একটা ঘরে বসাইল। ঘরে উত্তম ফরাস পাতা, তাহার উপর বড় বড় তাকিয়া। দিব্য সাজান