ঘর, দেয়ালে কাচের ফ্রেমে আঁটা সোনার অক্ষরে লেখা চারিদিকে কোরাণের বয়েৎ টাঙ্গানো রহিয়াছে।
দাউদ বসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, বাড়ীর মালিক কোথায়?
ভৃত্য হাসিয়া কহিল,—জনাবালি, মালিক ত কেহ নাই, মল্কাকে আপনি সেদিন অপমান হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন, সঙ্গে কর্ম্মচারী আছে, সেই বিষয়-আশয় দেখে, হিসাব-পত্র রাখে, তাহাকে ডাকিয়া দিতেছি।
ভৃত্য চলিয়া গেল। দাউদ কিছু নিরাশ হইল। হয় ত তাহার মনে আশা ছিল যে, সেই ক্ষণদৃষ্টা সুন্দরীকে আবার দেখিতে পাইবে, হয় ত সে নিজে আসিয়া তাহাকে সম্ভাষণ করিবে, কিংবা অন্তরাল হইতে তাহাকে নিরীক্ষণ করিবে। দাউদ এদিক্ ওদিক্ চাহিয়া দেখিতে লাগিল। সেই ঘরে প্রবেশ করিবার কয়েকটি দরজা ছিল, দরজায় পর্দ্দা দেওয়া, সেই দিকে তাহার দৃষ্টি পড়িল। একবার কি একটা পর্দ্দা ঈষৎ আন্দোলিত হইল, অলঙ্কারের মৃদু নিক্কণ শ্রুত হইল? না, শুধু দাউদের কল্পনা, উৎকর্ণ শ্রবণের ভ্রম? দাউদ পর্দ্দার দিকে চাহিয়া দেখিতেছে, এমন সময় কর্ম্মচারী প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করিল।
তাহার বয়স হইয়াছে, দাড়ী-গোঁফে পাক ধরিয়াছে, দোহারা শরীর, আকৃতি মধ্যবিধ, ঘরে প্রবেশ করিয়া লম্বা সেলাম করিয়া কহিল,—সলাম ওয়ালেকুম।
—ওয়ালেকুম সলাম।
—আপনার মেজাজ ভাল আছে?
—আপনাদের কৃপায় ভালই আছি।
—আপনার বীরত্বের কথা শুনিয়াছি। আপনার জন্য বিরি সাহেবের আবরু রক্ষা পাইয়াছিল।