অল্পবয়স্কা দাসী রূপার পাত্রে ফল, মিষ্টান্ন, শরবত, পানের ডিবা আনিয়া দাউদের সম্মুখে রাখিল। কহিল,—বিবি সাহেব আপনার জন্য এই সামান্য নাস্তা পাঠাইয়াছেন। তিনি আসিতেছেন।
—8—
কর্ম্মচারী দাউদকে সেলাম করিয়া উঠিয়া গেল। দাউদ সতৃষ্ণনয়নে যে দরজা দিয়া দাসী ঘরে প্রবেশ করিয়ছল, সেই দিকে চাহিয়া দেখিতে লাগিল। দাসী হাস্যমুখে বলিল,—আপনি কিছু খাইতেছেন না?
—এই যে খাইতেছি, বলিয়া দাউদ একটা আঙ্গুর তুলিয়া মুখে দিল।
এই সময় পর্দ্দা সরাইয়া রমণী ঘরে প্রবেশ করিল। দাউদ শশব্যস্তে উঠিয়া, মস্তক অবনত করিয়া অত্যন্ত সম্মানের সহিত তাহাকে অভিবাদন করিল। রমণী হাত তুলিয়া কহিল,—তসলীম। আপনি উঠিলেন কেন? বসুন।
দাউদ বসিল। উঠিবার সময় একবার রমণীর মুখের দিকে চাহিয়া দেখিয়াছিল, কিন্তু তাহার পর চক্ষু নত করিয়া রহিল।
দাসী বাহির হইয়া যায় দেখিয়া রমণী কহিল,—তুই এইখানে থাক্। দাউদকে কহিল,—আপনি কিছু খান, তার পর কথা হইবে।
দাউদ কিছু ফল, মিঠাই ও শরবত খাইয়া, হাত ধুইয়া, হাত মুছিল।
রমণী কহিল,—পাণ নিলেন না?
দাউদ একটা ছোট এলাচ তুলিয়া মুখে দিল, বলিল,—আমি পাণ খাই না।