—পাহালওয়ানরা কি পান খায় না?
আর একবার নিমেষের জন্য নয়নে নয়নে মিলিল, দাউদ লজ্জিত ভাবে কহিল,—আমি পাহালওয়ানের শাগরেদ মাত্র, পাহালওয়ানের সম্মুখে কিছুই নই।
—গোরারও মনে কি তাহাই হইয়াছিল?
বীণাবিনিন্দিত কলকণ্ঠে রমণী হাসিয়া উঠিল। পাল্কীর ভিতর হইতে সেই হাসি দাউদের স্মরণ হইল। দুই জনে পরস্পরের মুখের দিকে চাহিয়া সরল প্রকৃতি বালক-বালিকার মত হাসিতে লাগিল।
রমণী কহিল,—গোরা যখন পড়িয়া যায়, সেই সময়কার তাহার মুখের ভাব আমার কেবলই মনে পড়ে। মানুষ আকাশ হইতে পড়িলেও এত আশ্চর্য্যান্বিত হয় না। আপনাকে দেখিয়া সে ভাবিয়াছিল, এক ঘুষিতে আপনাকে গুঁড়া করিয়া দিবে।
—প্যাঁচের কাছে শুধু গায়ের জোর টেকে না।
—এ পর্য্যন্ত আপনার পরিচয় পাইবার সৌভাগ্য আমার হয় নাই। আমার নাম হানিফা।
—আমার নাম দাউদ, পাহালওয়ানি আমার পেশা নয়।
—আপনার বংশ-পরিচয় জানি। এরূপভাবে আপনার সহিত কথা কহিতেছি, আপনি নিশ্চিত আমাকে মুখরা মনে করিতেছেন।
দাউদ লজ্জায় অধোবদন হইল, কহিল,—আপনি এমন কথা কেন বলিতেছেন? পর্দ্দার প্রথা ত সকল দেশে নাই।
—যে দেশে আমরা থাকি, সেখানে মোটেই নাই। কাজকর্ম্ম উপলক্ষে আমাকে সকলের সঙ্গে কথা কহিতে হয়। স্ত্রীলোক হইলেই কি লুকাইয়া থাকিতে হইবে?