দাসী খাবারের পাত্র তুলিয়া লইয়া গেল। হনিফা কহিল,—এখনই ফিরিয়া আসিবি।
তৃতীয় ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে দুই জনের মুখ বন্ধ হইয়া গেল। লজ্জা আসিয়া দুই জনের মুখ আঁটিয়া দিল। হনিফার চক্ষু অবনত, অঙ্গুলিতে বস্ত্রাঞ্চল জড়াইতেছিল। সেই অবসরে দাউদ তাহার মুখের দিকে চাহিয়া তাহার রূপরাশি দেখিল, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোমল সৌন্দর্য্য লক্ষ্য করিল। আবার যখন হনিফার চক্ষু উঠিল, তখন দাউদের দৃষ্টি আর এক দিকে, হনিফা তাহার মুখের অনিন্দ্য শ্রী, তাহার বক্ষের বিশালতা দেখিল। এইরূপে কয়েকবার চক্ষুর লুকাচুরী খেলা হইল, তাহার পর চুম্বকের আকর্ষণে যেমন লৌহ টানে, সেইরূপ চক্ষুর প্রতি চক্ষু আকৃষ্ট হইল, মিলিল, স্থির হইল। চোখে চোখে কি যে কথা হইল, তাহা তাহারাই জানে, কিন্তু মুখে যে-কথা বলিতে দিন ফুরাইয়া যায়, পলকের মধ্যে তাহা হইয়া গেল। হনিফার গণ্ডস্থল হইতে কান পর্য্যন্ত লাল হইয়া উঠিল, দাউদের মুখ পাণ্ডুবর্ণ হইয়া গেল। কয়েক মুহূর্ত্ত এইরূপে গেল, দুই জনের কেহই দৃষ্টি ফিরাইতে পারিল না, দুই জনের কাহারও মুখ ফুটিল না।
দাসী ফিরিয়া আসিল, উভয়ের দৃষ্টির টানা তার ছিঁড়িয়া গেল। দাউদ বলিল,—আপনার উজীর সাহেব, আপনার ভাইয়ের পীড়ার কথা বলিতেছিলেন।
—হ্যাঁ, সেই জন্যই আমরা এখানে আসিয়াছি। ফিরোজ ছেলেবেলা হইতেই কেমন-কেমন, এখন ত একেবারে মাথা খারাপ হইয়া গিয়াছে।
—হাকিম নসিরুদ্দীন দেখিয়াছেন?
—হাকিম সাহেব একবার আসিয়াছিলেন, আবার আসিবার কথা