রক্ষক দুই জন ছুটিয়া আসিল। তাহারা আসিয়াই ফিরোজকে দুই জনে দুই দিক্ হইতে ধরিল। দাউদ তাহাকে ছাড়িয়া দিল। ফিরোজ কেবল চীৎকার করিতেছিল,—দুশমনকো মারুঙ্গা, দুশমনকো মারুঙ্গা!
আর কোন আশঙ্কা নাই দেখিয়া হনিফা যেখানে বসিয়াছিল, সেইখানে আসিয়া রক্ষকদ্বয়কে বলিল,—তোমরা নিজের কাজে এমন গাফিল হইলে চলিবে না।
এক জন বলিল,—সাহেবা, নবাবজাদা নিজের ঘরে বসিয়াছিলেন, আমরা দরজার কাছে ছিলাম। ভিতর দিকার দরজা খুলিয়া কখন চলিয়া আসিয়াছেন, আমরা কিছু জানিতে পারি নাই।
—এখন হইতে তোমরা ঘরের ভিতর থাকিবে।
—যো হুকুম।
হনিফা বলিল,—ফিরোজ!
পাগলের আবার অন্য ভাব হইল, হাত দিয়া চক্ষুর সম্মুখ হইতে কি যেন সরাইয়া দিয়া কহিল,—কেন?
এখন বেশ শান্ত ভাব, বলপ্রকাশের কোন চেষ্টা নাই। হানিফা কহিল,—তুমি গিয়া শান্ত হইয়া থাক, তাহা হইলে তোমাকে মোটরে করিয়া বেড়াইতে পাঠাইয়া দিব।
—আচ্ছা, বলিয়া ফিরোজ রক্ষকদের সঙ্গে চলিয়া গেল। দরজার কাছে গিয়া, মুখ ফিরাইয়া দাউদকে দেখিয়া ভ্রূ কুঞ্চিত করিয়া বিড়বিড় করিয়া দুশমন বলিতে বলিতে চলিয়া গেল।
দাউদের পোষাক এক স্থানে ছিঁড়িয়া গিয়াছিল। হনিফা অপ্রতিভ হইয়া বলিল,—আপনাকে এখানে আসিতে বলিয়া ভাল করি