বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮০
রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প

—৫—

 সেই দিন হইতে দাউদের জীবন-স্রোত আর এক খাতে প্রবাহিত হইল। প্রেমের বন্যা আসিয়া তাহার হৃদয়কে ভাসাইয়া লইয়া গেল। শয়নে, স্বপনে, জাগরণে একই মূর্ত্তি তাহার মানস-দৃষ্টিতে সমুদিত হইত, একই নাম অনুক্ষণ তাহার হৃদয়তন্ত্রীতে ঝঙ্কারিত, ধ্বনিত হইত। হনিফা, হনিফা, হনিফা! হনিফার মুখ সর্ব্বদা তাহার নয়নসমক্ষে সমুজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের ন্যায় প্রতীয়মান হইত,—তাহার হৃদয়াকাশ আলোকিত করিত। হনিফার চক্ষুর জ্যোতিঃ তাহার মানস-পথে বিচ্ছুরিত হইত। সেই করকমলের স্পর্শ স্মরণ করিয়া তাহার হস্ত কম্পিত হইত। এই অভূতপূর্ব্ব, অচিন্তনীয় আকুলতা দাউদ কিছুতেই নিবারণ করিতে পারিত না, করিবার চেষ্টাও করিত না। সেই এক চিন্তাতেই তাহার অসীম আনন্দ, আবার সেই চিন্তাতেই অসহ্য যন্ত্রণা। আনন্দ স্মৃতিতে, যন্ত্রণা পুনরায় দর্শনের বিলম্বে। তাহার আত্মসংযম তিরোহিত হইয়া আসিতেছিল।

 প্রতিদিন অপরাহ্ণ কালে দাউদ আখড়ায় যাইবার জন্য গৃহ হইতে বাহির হইত, কিন্তু সেখানে যাওয়া হইত না। অনির্দ্দিষ্ট ভাবে চলিতে চলিতে রাবীর অভিমুখে চলিয়া যাইত, আবার পথে থমকিয়া দাঁড়াইত। কিসের ছলে নিত্য হনিফার বাড়ী যাইবে? হানিফা অসন্তুষ্ট না হইলেও তাহার গৃহে অপর লোকজন আছে, তাহারা কি মনে করিবে, কি বলিবে? একবার ঘটনাক্রমে হনিফার যৎসামান্য উপকার করিয়াছিল বলিয়া কি দাউদ যখন-তখন তাহার গৃহে যাইতে পারে? আবার ভাবিত, হনিফা অপ্রসন্ন না হইলে আর কাহারও কথায় কি আসিয়া যায়? হানিফা স্পষ্টাক্ষরে দাউদকে আবার যাইতে বলে নাই সত্য,