কিন্তু তাহার দৃষ্টিতে কি আহ্বান ছিল না? বিদায়ের সময় হনিফা মুখে কিছু না বলিলেও চক্ষুর ভাষায় দাউদকে আবার আসিতে বলিয়াছিল।
কয়েক দিন দাউদ রংমহলে গেল না। এদিক ওদিক ঘুরিয়া ঘুরিয়া ক্লান্ত হইয়া বাড়ী ফিরিয়া আসিত। তিন চার দিন পরে এক দিন মধ্যাহ্নের পর রাঁঝা দাউদকে দেখিতে আসিল। দাউদ অত্যন্ত সম্মানের সহিত তাহাকে নিজের ঘরে লইয়া গেল।
ঘরে বসিয়া রাঁঝা জিজ্ঞাসা করিল,—কয়েক দিন তুমি আখড়ায় যাও নাই কেন? তোমার শরীর কি অসুস্থ?
—না, আমার কোন অসুস্থ করে নাই, আলস্যের কারণ কয় দিন যাইতে পারি নাই।
—সে কোন কাজের কথা নয়। তোমাকে অন্যমনস্ক দেখিতেছি। তুমি কি সেই রমণীর গৃহে গিয়াছিলে?
—এক দিন গিয়াছিলাম।
—তাহার সহিত সাক্ষাৎ হইয়াছিল?
—হইয়াছিল। তাহারা দক্ষিণ দেশে বাস করে, সেখানে জেনানার পর্দ্দা নাই।
—বাড়ীতে আর কে আছে?
—লোক-জন, কর্ম্মচারী আছে, বাপ-মা নাই। সম্পত্তি তিনি নিজেই দেখেন। এক পাগল ভাই আছে, তাহারই চিকিৎসার জন্য উহারা এখানে আসিয়াছে।
—রমণীর প্রতি তোমার অনুরাগ জন্মিয়াছে?
দাউদ কোন উত্তর করিল না, মস্তক অবনত করিয়া মৌন হইয়া রহিল।