—৭—
বাড়ীর বাহিরে আসিয়া দাউদ দেখিল, অন্ধকার হইয়াছে। সে বাইসিকেলের আলো জ্বালিয়া তাহাতে উঠিয়া ধীরে ধীরে ফটকের দিকে চলিল। পথে এক স্থানে বড় বড় গাছের তলায় অত্যন্ত অন্ধকার। দাউদ এক পাশ দিয়া আস্তে আস্তে বাইসিকেল চালাইতেছিল।
হঠাৎ পশ্চাতে বিকট চীৎকার শুনিয়া দাউদ বাইসিকেল হইতে লাফাইয়া পড়িল। সে বুঝিতে পারিল, ফিরোজ কোন রূপে প্রহরী দুই জনকে এড়াইয়া তাহার পিছনে আসিয়াছে। চীৎকার করিয়াই ফিরোজ দাউদকে আক্রমণ করিল। তাহার হাতে ছিল একটা ছুরি। যেমন ছুরি তুলিয়া সে দাউদের বক্ষে আঘাত করিবে, অমনি গাছের শিকড়ে পা লাগিয়া পড়িয়া গেল। পড়িবার সময় ছুরি দাউদের ঊরুস্থলে বিদ্ধ হইল। দাউদ ফিরোজের হাত হইতে ছুরি কাড়িয়া লইয়া দূরে নিক্ষেপ করিল। ক্ষতস্থান হইতে বেগে রক্ত ছুটিল।
রক্ষক দুই জন ফিরোজকে খুঁজিতেছিল, চীৎকার শুনিয়াই ছুটিয়া আসিল। দাউদ রুমাল বাহির করিয়া ক্ষতস্থানে বাঁধিতেছিল, রক্ষকদিগকে দেখিয়া বলিল,—আমার পায়ে ছুরি মারিয়াছে, তোমরা ইহাকে সাম্লাও।
রক্ষকেরা তখনি ফিরোজকে বাঁধিয়া ফেলিল। আহত হইয়া দাউদ মাটীতে বসিয়া পড়িয়াছিল, রক্তস্রাবে তাহার শরীর অবসন্ন হইয়া আসিতেছিল। উঠিবার চেষ্টা করিতে গিয়া মূর্চ্ছিত হইয়া পড়িল।
আবার যখন তাহার চৈতন্য হইল, তখন দেখে, ঘরের ভিতর পালঙ্কে সে শয়ন করিয়া আছে, ক্ষতস্থান আঁটিয়া বাঁধা, শয্যার পাশে হনিফা, দাসী ও কর্ম্মচারী। হানিফা ও দাসীর নয়নে অশ্রু বহিতেছে।