বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯০
রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প

 দাউদের মুখ কিছু ম্লান হইয়া গিয়াছে, কিন্তু ক্লেশের আর কোন চিহ্ন নাই। হাসিয়া কহিল,—তোমরা কাঁদিতেছ কেন? কি হইয়াছে?

 হানিফা অশ্রু সম্বরণ করিয়া চক্ষু মুছিয়া কহিল,—আমার বাড়ীতে আসিয়া তোমার এইরূপ হইল! তোমার পিতা আসিলে তাঁহাকে আমরা কি বলিব?

 —আমার পিতার আসিবার কি প্রয়োজন?

 কর্ম্মচারী বলিল,—অপনার গুরুতর আঘাত লাগিয়াছে, এ সংবাদ কি তাঁহার নিকট গোপন করা যায়? তাঁহাকে ও ডাক্তারকে আনিবার জন্য মোটর পাঠান হইয়াছে, তাঁহারা এখনি আসিবেন।

 দাউদ বলিল,—সামান্য আঘাত লাগিয়াছে, সেজন্য আপনারা এত চিন্তিত হইয়াছেন কেন? আমাকে বাড়ী পাঠাইয়া দিলেই হইত, যাহা বলিবার আমি নিজেই বলিতাম।

 —আপনাকে কি অচৈতন্য অবস্থায় পাঠাইয়া দেওয়া যায়?

 —আমার মাথা ঘুরিয়া গিয়া থাকিবে। রক্ত ছুটিলে ওরূপ হয়, কিন্তু ও কিছুই নয়। অমন চোট কত লাগিয়া থাকে।

 কর্ম্মচারী বলিল,—ডাক্তারের আসিবার সময় হইল, আমি তাঁহাদিগকে লইয়। আসি।

 কর্ম্মচারী বাহিরে গেল। হনিফা দাউদের পাশে খাটে বসিল। তাহার চক্ষুতে কেবল অশ্রু পূরিয়া আসিতেছিল। বলিল,—এমন জানিলে তোমাকে কখন এখানে আসিতে বলিতাম না। তোমার পিতা শুনিয়াই বা কি বলিবেন? তিনি আমাদিগকে তোমার শত্রু মনে করিবেন। তুমি সারিয়া উঠিয়া গৃহে যাও, তাহা হইলেই আমি নিশ্চিন্ত হই। বিবাহের কথা স্বপ্নতুল্য হইল।