দাউদ হনিফার হাত ধরিল। হাসিয়া বলিল, স্বপ্ন সত্য হইবে। তুমি দেখিও হয় কি না।
বাহিরে মোটরের শব্দ হইল। দাউদ বলিল, তোমরা পর্দ্দার আড়ালে দাঁড়াও, তাহা হইলেই সব দেখিতে শুনিতে পাইবে।
হনিফা ও দাসী ভিতরকার দরজার পর্দ্দার পিছনে গিয়া দাঁড়াইল।
কর্ম্মচারীর পশ্চাতে নবীউল্লা খাঁ ও ডাক্তার ঘরে প্রবেশ করিলেন। নবীউল্লার বয়স হইয়াছে, কিন্তু অধিক বৃদ্ধ হন নাই। গম্ভীর মূর্ত্তি, শান্ত পুরুষ, এখন উদ্বেগে আননে চিন্তার চিহ্ন। গৃহে প্রবেশ করিয়া কহিলেন,—অন্য কোন কথা হইবার পূর্ব্বে ডাক্তার সাহেব দেখুন।
ডাক্তারের সঙ্গে আর এক জন লোক আসিয়াছিল, সেও ব্যাগ হাতে করিয়া পিছনে পিছনে আসিল।
গরম জল, গামলা, বাসন পূর্ব্ব হইতেই প্রস্তুত ছিল। ব্যাগ হইতে একটা স্পিরিটের আলো বাহির করিয়া, একটা বাটিতে কয়েকটা অস্ত্র ডাক্তারের লোক তপ্ত জলে ফুটাইতে আরম্ভ করিল।
বন্ধন খুলিয়া ডাক্তার ক্ষতস্থান দেখিলেন। তখনও অল্প অল্প রক্ত পড়িতেছে, বন্ধন খুলিয়া দেওয়াতে আবার বেগে রক্ত ছুটিল। কাটার মুখ চাপিয়া ধরিয়া ঔষধ দিয়া ডাক্তার রক্তস্রাব বন্ধ করিলেন। তাহার পর পরীক্ষা করিয়া কহিলেন,—শির কাটিয়া যায় নাই, হাড়েও লাগে নাই। ভাল করিয়া ধুইয়া ক্ষতস্থান সেলাই করিয়া কাটার মুখ বন্ধ করিতে হইবে। কিছু বেশী লাগিবে, ঔষধ দিয়া রোগীকে অজ্ঞান করিলে যন্ত্রণা টের পাইবে না।
দাউদ বলিল,—আমাকে অজ্ঞান করিবার কোন প্রয়োজন নাই। আপনার যাহা করিবার হয় করুন।