দিতে গেলেন, ডাক্তার কোনমতে টাকা লইলেন না। তাহার কারণ, যে-ব্যক্তি ডাক্তারকে ডাকিতে গিয়াছিল, সে বলিয়া দিয়াছিল, তাঁহার প্রাপ্য হনিফা বিবি চুকাইয়া দিবেন, তিনি যেন দাউদের পিতার নিকট কোনমতে টাকা গ্রহণ না করেন।
নবীউল্লা বলিলেন,—এখন যদি না লয়েন, তাহা হইলে পরে আমাকে বিল পাঠাইবেন।
—সে পরে দেখা যাইবে।
ডাক্তার ফিরোজকে দেখিতে গেলেন। নবীউল্লা ফিরিয়া আসিয়া পুত্রের কাছে বসিলেন। বলিলেন,—কর্ম্মচারীর মুখে আমি সকল কথা শুনিয়াছি। তুমি যে এখানে আসা-যাওয়া কর, আমরা ত তাহার কিছু জানিতাম না।
—এখানে ত আমি বেশী বার আসি নাই। পরে আপনাকে সকল কথা জানাইতাম।
—এখানে আসিবার কথা কাহাকেও বলিয়াছ?
—আজ্ঞা হাঁ, রাঁঝাকে বলিয়াছি?
—তাহার সঙ্গে তোমার সকল কথা হয় বটে। সে লোক ভাল।
আমার ওস্তাদ। অমন সৎ লোক বড় দেখিতে পাওয়া যায় না।
—যে তোমাকে ছুরি মারিয়াছিল, সে উন্মাদ পাগল। দেখিলাম, তাহাকে বাঁধিয়া রাখিয়াছে।
—অল্প দিন হইল উৎপাত করিতে আরম্ভ করিয়াছে। আমাকে দেখিয়াই বিনা কারণে ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিয়াছিল। প্রহরীরা সতর্ক থাকিলেও কোথা হইতে একটা ছুরি আনিয়া আমাকে আক্রমণ করিয়াছিল।