পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমালোচনা )ని بمحا প্রেমের আড়ালে জগৎ ঢাকা পড়ে ; শুধু তাহাই নহে,— “পরাণ সমান পিরীতি রতন জুকিয় হৃদয়-তুলে, পিরীতি রতন অধিক হইল, পরাণ উঠিল চুলে ।” চণ্ডিদাস হৃদয়ের তুলা-দণ্ডে মাপিয়া দেখিলেন, প্রাণের অপেক্ষ প্রেম অধিক হইল। এই ত জগৎগ্রাসী, প্রাণ হইতে গুরুতর প্রেম ইহা আবার নিত্যই বাড়িতেছে, বাড়িবার স্থান নাই, তথাপি বাড়িতেছে, “নিতই নূতন পিরীতি দু জন, তিলে তিলে বাঢ়ি যায় ; ঠাঞি নাহি পায়, তথাপি বাড়ায়, পরিণামে নাহি খায় !” ইহার আর পরিণাম নাই । এত বড় প্রেমের ভাব চণ্ডিদাস ব্যতীত আর কোন প্রাচীন কবির কবিতায় পাওয়া যায় ? বিদ্যাপতির সমস্ত পদাবলীতে একটি মাত্র কবিতা আছে, চণ্ডিদাসের কবিতার সহিত যাহার তুলনা হইতে পারে। তাহ শতবার উদ্ধৃত হইয়াছে, আবার উদ্ধৃত করি । ”সখি রে, কি পুছসি অনুভব মোয় । সোই পিরীতি অনুরাগ বাখানিতে তিলে তিলে নূতন হোয় । জনম অবধি হম রূপ নেহারন্থ নয়ন না তিরপিত ভেল, সোই মধুর বোল শ্রবণ হি শুনচু শ্রুতিপথে পরশ না গেল । কত মধু-যামিনী রভসে গোয়ায়হ, না বুঝঙ্ক কৈছন কেল, লাখ লাখ যুগ হিয়ে হিয়ে রাখমু তবু হিয়ে জুড়ন না গেল । যত যত রসিক জন রস অনুমগন, অনুভব কহে, না পেখে,