পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী । তোমার মিলন মোর পুণ্য-পুঞ্জ-রাশি, মরমে লাগিছে মধুর মৃদু হাসি ! আনন্দ-মন্দির তুমি, জ্ঞান শকতি, বাঞ্ছাকল্পলতা মোর কামনা মূরতি । সঙ্গের সঙ্গিনী তুমি মুখময় ঠাম। পাসরিব কেমনে জীবনে রাধা নাম ॥ গলে বনমালা তুমি, মোর কলেবর । রায় বসন্ত কহে প্রাণের গুরুতর ॥ এমন প্রশান্ত উদার গম্ভীর প্রেম বিদ্যাপতির কোন পদে প্রকাশ পাইয়াছে কিনা সন্দেহ । ইহার কএকটি সম্বোধন চমৎকার । রাধাকে যে কৃষ্ণ বলিতেছেন—তুমি আমার কামনার মূৰ্ত্তি, আমার মূৰ্ত্তিমতী কামনা—অর্থাং তুমি আমার মনের একটি বাসনা মাত্র, রাধারূপে প্রকাশ পাইতেছ, ইহা কি সুন্দর । তুমি আমার গলে বনমালা, তোমাকে পরিলে আমার শরীর তৃপ্তি হয় –না—তুমি তাহারো অধিক, তুমি আমার শরীর, আমাতে তোমাতে প্রভেদ আর নাই –না, শরীর না, তুমি শরীরের চেয়েও অধিক, তুমি আমার প্রাণ, সৰ্ব্ব শরীরকে ব্যাপ্ত করিয়া যাহা রহিয়াছে, যাহার আবির্ভাবে শরীর বাচিয়া আছে, শরীরে চৈতন্য আছে, তুমি সেই প্রাণ — রায়বসন্ত কহিলেন, না, তুমি তাহারো অধিক, তুমি প্রাণেরো গুরুতর, তুমি বুঝি প্রাণকে প্রাণ দিয়াছ, তুমি আছ বলিয়াই বুঝি প্রাণ অাছে ! ঐ যে বলা হইয়াছে “মরমে লাগিছে মধুর মৃদু হাসি ” ইহাতে হাসির মাধুৰ্য্য কি স্বন্দর প্রকাশ পাইতেছে ! বসন্তের বাতাসটি গায়ে যেমন করিয়া লাগে, স্থদুর বঁাশীর ধ্বনি কানের কাছে যেমন করিয়া মরিয়া যায়, পদ্ম-মৃণাল কঁাপিয়া সরোবরে একটুখানি তরঙ্গ উঠিলে তাহ যেমন করিয়া তীরের কাছে আসিয়া মিলাইয়া যায়, তেমনি একটুখানি হাসি—অতি মধুর অতি মৃদু একটি হাসি মরমে আসিয়া লাগিতেছে ; বাতাসটি গায়ে লাগিলে যেমন ধীরে ধীরে চোখ বুজিয়া আসে, তেমনিতর বোধ হইতেছে ! হাসি কি কেবল দেখাই যায় ? হাসি ফুলের গন্ধটির মত প্রাণের মধ্যে আসিয়া লাগে । るミケ রাধা বলিতেছেন— প্রাণনাথ, কেমন করিব আমি ? তোমা বিনে মন করে উচাটন কে জানে কেমন তুমি!