পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমালোচনা “ । $8.5 অবস্থায় স্ত্রীও স্বামীকে দেবতা জ্ঞান করিত । সমাজের সমস্ত স্বর এক হইয়া মিলিত । এখন স্বতন্ত্র শিক্ষার প্রভাবে সমাজের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কনিষ্ঠ কতকটা একাকার হইয়া পড়িতেছে। এখন বড় ভাইকে ছোট ভাই, গুরুজনদিগকে স্নেহাস্পদের, এমন কি, পিতাকে পুত্র তেমন ভাবে দেখে না, তেমন করিয়া মানে না—ইহা কেহই অস্বীকার করিতে পারেন না। এই সংক্রামক ভাব যদি সমাজের সর্বত্রই আক্রমণ করিয়া থাকে তবে কি কেবল পতি-পত্নীর সম্পর্কই ইহার হাত হইতে রক্ষা পাইতে পারে ? তাহাদের মধ্যেও কি সাম্যভাব প্রবেশ করে নাই, অথবা দ্রুতবেগে করিতেছে না ? চারিদিকের উদাহরণে এই ভক্তির ভাব কি মন হইতে শিথিল হইয়া যায় নাই ? আগেকার বউরা শাশুড়িকে যেরূপ মান্য করিত, এখনকার বউরা কি তেমন মান্ত করে ? শাশুড়ির প্রতি যে কারণে ভক্তির লাঘব হইয়াছে, সেই কারণেই কি স্বামীর প্রতিও ভক্তির লাঘব হয় নাই ? তবে কিরূপে আশা করা যায় পূৰ্ব্বে যেরূপ অচলা নিষ্ঠার সহিত বিধবার ব্রহ্মচৰ্য্য পালন করিতেন, এখনও তাহারা সেইরূপ পারিবেন ? এখন বলপূর্বক সেই বাহ অনুষ্ঠান অবলম্বন করাইলে কি সমাজে উত্তরোত্তর গুরুতর অধৰ্ম্মাচরণ প্রবেশ করিয়া নিদারুণ অমঙ্গলের স্বষ্টি করিবে না ? বিধবা-বিবাহের সম্বন্ধে আরও একটা কথা আছে। আমাদের সমাজে একান্নবৰ্ত্তী পরিবারের মূল শিথিল হইয়া আসিতেছে। গুরুজনের প্রতি অচলা ভক্তি ও আত্মমতবিসর্জনই একান্নবৰ্ত্তী পরিবারের প্রতিষ্ঠাস্থল। এখন সাম্যনীতি সমাজে বন্যার মত আসিয়াছে, কোঠা বাড়ি হইতে কঞ্চির বেড়া পৰ্য্যস্ত উচু জিনিষ যাহা কিছু আছে সমস্তই ভাসাইয়া লইয়া যাইতেছে । তাহা ছাড়া শিক্ষাও যত বাড়িতেছে, মতভেদও তত বাড়িতেছে। দুই সহোদর ভ্রাতার জীবনযাত্রার প্রণালী ও মতে মিলে না, তবে আর বেশী দিন একত্র থাকা সম্ভবে না। একান্নবর্তী পরিবার-প্রথা ভাঙ্গিয়া গেলে স্বামীর মৃত্যুর পর একাকিনী বিধবা কাহাকে আশ্রয় করিবে ? বিশেষতঃ তাহার যদি ছোট ছোট দুই একটি ছেলে থাকে তবে তাহাদের পড়ান শুনান রক্ষণাবেক্ষণ কে করিবে ? আজকাল যেরূপ অবস্থা ও সমাজ যেদিকে যাইতেছে, তাহারই উপযোগী পরিবর্তন ও শিক্ষা হওয়া কি উচিত নয় ? কিন্তু যত দিন একান্নবৰ্ত্তিত্ব একেবারে না ভাঙ্গিয়া যায় তত দিনই বা বিধবাবিবাহ স্বচারুরূপে সম্পন্ন হুইবে কি করিয়া ? স্বামী ব্যতীত শ্বশুরালয়ের আর কাহারও সহিত যাহার তেমন ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল না, সে রমণী স্বামীর মৃত্যুর পরে বিবাহ করিয়া শ্বশুরালয়ের সহিত একেবারেই বিচ্ছিন্ন হইতে পারে, তাহাতে আপত্তি দেখি না । কিন্তু একান্নবৰ্ত্তী পরিবারে শ্বশুরালয়ে স্বামী ছাড়াও কত শত বন্ধন। অতএব স্বামীর