পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


〉8b" রবীক্স-রচনাবলী করিতে নিষেধ করে, তাহার কারণ সমাজের খামখেয়ালী অত্যাচার-পৃহা নহে। সমাজ বিধবাদিগকে বিধবা রাখিবার জন্তই এই কঠোর উপায় অবলম্বন করিয়াছে। যদি তুমি চির-বৈধব্য ব্ৰত ভালবাস, তবে আর এ সম্বন্ধে কথা কহিও না। তুমি মনে করিতেছ ঐ বাকাচোরা শিকড়গুলা গাছের কতকগুলা অর্থহীন গলগ্রহ মাত্র ; তাহা নয়,—উহারাই আশ্রয়, উহারাই প্রাণ। যদি অসবর্ণ বিবাহে তোমার আপত্তি থাকে, তবে পূৰ্ব্বরাগ-মূলক বিবাহকে খবরদার প্রশ্রয় দিও না। ইহা সকলেই জানেন, অম্বুরাগের হিসাব কিতাৰের জ্ঞান কিছু মাত্র নাই। সে, ঘর বুঝিয়া, দর করিয়া, গোত্র জানিয়া পাত্র-বিশেষকে আশ্রয় করে না। তাহার নিকট রাঢ় বারেন্দ্র নাই ; গোত্র প্রভেদ নাই ; ব্রাহ্মণ শূদ্র নাই। অতএব অনুরাগের উপর বিবাহের ঘটকালি-ভার অর্পণ করিলে সে জাতি বিজাতিকে একত্র করিবে, ইহা নিশ্চয় । অতএব, হয়, অসবর্ণ বিবাহ দেও, নয়, পিতামাতার প্রতি সস্তানের বিবাহ-ভার থাক । কিন্তু এই পরাধীন বিবাহ-প্রথা রক্ষা করিতে হইলে তাহার সঙ্গে সঙ্গে আবার আরো অনেকগুলি আনুষঙ্গিক প্রথা রক্ষা করিতে হয় । যেমন বাল্যবিবাহ ও অবরোধ প্রথা । যদি স্ত্রীলোকেরা অন্তঃপুরের বহির্দেশে বিচরণ করিতে পায়, ও অধিক বয়সে বিবাহ-প্রথা প্রচলিত হয়, তবে অসবর্ণ বিবাহ আরম্ভ হইবেই । যখন যৌবনকালে কুমার কুমারীযুগলের পরস্পরের প্রতি অনুরাগ জন্মাইবে, তখন কি পিতামাতার ও চিরন্তন প্রথার নীরস আদেশ তাহারা মান্ত করিবে ? তাহা ব্যতীতও বাল্যবিবাহের আর একটি অর্থ আছে। বালক কাল হইতে দম্পতির একত্রে বর্দ্ধন, একত্রে অবস্থান হইলে, উভয়ে এক রকম মিশ খাইয়া যায়, বনিয়া যায়। কিন্তু যখন পাত্র ও পাত্রী উভয়ে বয়স্ক, উভয়েরই যখন চরিত্র সংগঠিত ও মতামত স্থিরীকৃত হইয়া গিয়াছে ও কচি-অবস্থার নমনীয়তা চলিয়া গিয়াছে ও পাকা-অবস্থার দৃঢ়তা জন্মিয়াছে, তখন অমন দুই ব্যক্তিকে অম্বুরাগ ব্যতীত আর কিছুতেই জুড়িতে পারে না ;–না, বাসসামীপ্য, না, বিবাহের মন্ত্র । তাহাদের মতই বলপূৰ্ব্বক একত্র করিতে চেষ্টা করিবে, ততই তাহারা দ্বিগুণ বলে তফাৎ হইতে থাকিবে । অনুরাগ করা তাহাদের পক্ষে কৰ্ত্তব্য কাৰ্য্য বলিয়াই অম্বুরাগ করা তাহাদের পক্ষে দ্বিগুণ দুঃসাধ্য হইয়া পড়িবে। অতএব যদি অসবর্ণ বিবাহ না দেও, তবে পূৰ্ব্বরাগ-মূলক বিবাহ দিও না, বাল্য-বিবাহ প্রচলিত থাক, অবরোধ-প্রথা উঠাইও না। তুমি যে মনে করিতেছ, স্ববিধামত আমি সমাজ হইতে লোকাচারের একটি মাত্র ইট খসাইয়া লইব, আর অধিক নয় ; তোমার কি ভ্ৰম! ঐ একটি ইট খসিলে কতগুলি ইট খসিবে ও প্রাচীরে কতখানি ছিত্র হইবে তাহা তুমি छांम न !