পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/২০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


p *. Sb-8 {{ʻy" ! রবীন্দ্র-রচনাবলী সেই আরণ্যক ঋষিকবি যে সত্যকে সন্ধান করিয়াছেন সেই সত্য অন্তকার সভ্য যুগের পক্ষেও দুর্লভ। আধুনিক সভ্যতা কামান বন্দুকে ধন্থঃ শরকে জিতিয়াছে কিন্তু সেই কত শত শতাব্দীর পূর্ববর্তী ব্রহ্মজ্ঞানকে পশ্চাতে ফেলিতে পারে নাই। সমস্ত প্রত্যক্ষ পদার্থের মধ্যে তদেতৎ সত্যং সেই ষে একমাত্র সত্য ষদ অণুভ্যোণুচ, যাহা অণু হইতেও অণু, অথচ যস্মিন লোকা নিহিতা লোকিনশ্চ, যাহাতে লোক সকল এবং লোকবাসী সকল নিহিত রহিয়াছে সেই অপ্রত্যক্ষ ধ্রুব সত্যকে শিশুতুল্য সরল ঋষিগণ অতি নিশ্চিতরূপে জানিয়াছেন । তদমূতং, তাহাকেই তাহারা অমৃত বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন এবং শিষ্যকে ডাকিয়া বলিয়াছেন তদ্ভাবগতেন চেতসা, তদ্ভাবগত চিত্তের দ্বারা তাহাকে লক্ষ্য কর—তদ্বেদ্ধব্যং সোম্য বিদ্ধি, তাহাকে বিদ্ধ করিতে হইবে, হে সৌম্য তাহাকে বিদ্ধ কর । শরবত্তন্ময়ো ভবেৎ, লক্ষ্যপ্রবিষ্ট শরের ন্যায় তাহারই মধ্যে তন্ময় হইয়া যাও ! সমস্ত আপেক্ষিক সত্যের অতীত সেই পরম সত্যকে কেবল মাত্র জ্ঞানের দ্বারা বিচার করা সেও সামান্য কথা নহে, শুদ্ধ যদি সেই জ্ঞানের অধিকারী হইতেন তবে তাহাতেও সেই স্বল্লাশী বিরলবসন সরলপ্রকৃতি বনবাসী প্রাচীন আৰ্য্য ঋষিদের বুদ্ধিশক্তির মহৎ উৎকর্ষ প্রকাশ পাইত । কিন্তু উপনিষদের এই ব্ৰহ্মজ্ঞান কেবলমাত্র বুদ্ধিবৃত্তির সাধনা নহে—সকল সত্যকে অতিক্রম করিয়া ঋষি যাহাকে একমাত্র তদেতং সত্যং বলিয়াছেন, প্রাচীন ব্রহ্মজ্ঞদের পক্ষে তিনি কেবল জ্ঞানলভ্য একটি দার্শনিক তত্ত্বমাত্র ছিলেন না—একাগ্রচিত্ত ব্যাধের ধন্থ হইতে শর যেরূপ প্রবলবেগে প্রত্যক্ষ সন্ধানে লক্ষ্যের দিকে ধাবমান হয়, ব্রহ্মর্ষিদের আত্মা সেই পরমসত্যের মধ্যে প্রবেশ করিয়া তন্ময় হইবার জন্য সেইরূপ আবেগের সহিত ধাবিত হইত। কেবল মাত্র সত্য নিরূপণ নহে, সেই সত্যের মধ্যে সম্পূর্ণ আত্মসমপণ তাহদের লক্ষ্য ছিল। কারণ, সেই সত্য কেবল মাত্র সত্য নহে, তাহা অমৃত । তাহা কেবল আমাদের জ্ঞানের ক্ষেত্র অধিকার করিয়া নাই, তাহাকে আশ্রয় করিয়াই আমাদের আত্মার অমরত্ব। এই জন্য সেই অমৃত পুরুষ ছাড়িয়া আমাদের আত্মার অন্য গতি নাই ঋষিরা ইহা প্রত্যক্ষ জানিয়াছেন এবং বলিয়াছেন— স ধঃ অন্যম্ আত্মন: প্রিয়ং ক্ৰবাণং ক্রয়াৎ— অর্থাৎ যিনি পরমাত্মা ব্যতীত অন্যকে আপনার প্রিয় করিয়া বলেন–প্রিয়ং রোৎস্যতীতি—র্তাহার প্রিয় বিনাশ পাইবে ! আমাদের জ্ঞানের পক্ষে যে সত্য সকল সত্যের শ্রেষ্ঠ আমাদের আত্মার পক্ষে তাহাই সকল প্রিয়ের প্রিয়তম ;– তদেতত্ত্ব প্রেয় পুত্রাং, প্রেয়ো বিজ্ঞাৎ, প্রেয়োহন্তস্মাং সৰ্ব্বস্মাৎ অস্তরতরং যদয়মাত্মা—