পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/২০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ব্ৰহ্ম মন্ত্র 4 بن لا পরের শ্লোকে বলিতেছেন :– কুৰ্ব্বন্নেবেহ কৰ্ম্মাণি জিজীবিষেচ্ছতং সমাঃ এবং ত্বয়ি নান্যথেতোইস্তি ন কৰ্ম্ম লিপ্যতে নরে । কৰ্ম্ম করিয়া শত বৎসর ইহলোকে জীবিত থাকিতে ইচ্ছা করিৰে,–হে নর, তোমার পক্ষে ইহার আর অন্যথা নাই, কৰ্ম্মে লিপ্ত হইবে না এমন পথ নাই । কৰ্ম্ম করিতেই হুইবে এবং জীবনের প্রতি উদাসীন হইবে না—কিন্তু ঈশ্বর সর্বত্র আচ্ছন্ন করিয়া আছেন ইহাই স্মরণ করিয়া কৰ্ম্মের স্বারা জীবনের শতবর্ষ যাপন করিবে । ঈশ্বর সর্বত্র আছেন অনুভব করিয়া ভোগ করিতে হইবে এবং ঈশ্বর সর্বত্র আছেন অক্ষুভব করিয়া কৰ্ম্ম করিতে হইবে । সংসারের সমস্ত কর্তব্য পরিত্যাগ করিয়া কেবল ব্রহ্মে নিরত থাক তাহাও ঈশোপনিষদের উপদেশ নহে— অন্ধং তম: প্রবিশন্তি যে অবিদ্যামুপাসতে । ততো ভূয় ইব তে তমো য উ বিদ্যায়াং রতাঃ । যাহারা কেবলমাত্র অবিদ্যা অর্থাৎ সংসারকর্মেরই উপাসনা করে তাহারা অন্ধতমসের মধ্যে প্রবেশ করে—তদপেক্ষ ভূয় অন্ধকারের মধ্যে প্রবেশ করে যাহারা কেবলমাত্র ব্রহ্মবিদ্যায় নিরত । ঈশ্বর আমাদিগকে সংসারের কৰ্ত্তব্য কৰ্ম্মে স্থাপিত করিয়াছেন । সেই কৰ্ম্ম যদি আমরা ঈশ্বরের কৰ্ম্ম বলিয়া না জানি, তবে পরমার্থের উপরে স্বার্থ বলবান হইয়া উঠে এবং আমরা অন্ধকারে পতিত হই । অতএব কৰ্ম্মকেই চরম লক্ষ্য করিয়া কৰ্ম্মের উপাসনা করিবে না, তাহাকে ঈশ্বরের আদেশ বলিয়া পালন করিবে । কিন্তু বরঞ্চ মুগ্ধভাবে সংসারের কৰ্ম্ম নিৰ্ব্বাহও ভাল তথাপি সংসারকে উপেক্ষা করিয়া সমস্ত কৰ্ম্ম পরিহারপূর্বক কেবল মাত্র আত্মার আনন্দ সাধনের জন্ত ব্রহ্মসম্ভোগের চেষ্টা শ্রেয়স্কর নহে । তাহা আধ্যাত্মিক বিলাসিত, তাহা ঈশ্বরের সেবা নহে। কৰ্ম্ম সাধনাই একমাত্র সাধনা । সংসারের উপযোগিতা সংসারের তাৎপৰ্য্যই তাই । মঙ্গলকৰ্ম্ম সাধনেই আমাদের স্বার্থ প্রবৃত্তি সকল ক্ষয় হইয়া আমাদের লোভ মোহ আমাদের হৃদগত বন্ধন সকলের মোচন হইয়া থাকে—আমাদের যে রিপু সকল মৃত্যুর মধ্যে আমাদিগকে জড়িত করিয়া রাখে সেই মৃত্যুপাশ অবিশ্রাম মঙ্গল কর্মের সংঘর্ষেই ছিন্ন হইয়া যায়। কৰ্ত্তব্য কৰ্ম্মের সাধনাই স্বাৰ্থপাশ হইতে মুক্তির সাধনা,–এবং ত্বয়ি নান্তথেতোহস্তি ন কৰ্ম্ম লিপ্যতে নরে—ইহার আর অন্যথা নাই—কৰ্ম্মে লিপ্ত হইবে ন। এমন পথ নাই ।