পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/২১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


పెరి. রবীন্দ্র-রচনাবলী হওয়া একজাতীয় প্রমভতা । সত্যের এক দিককে উপেক্ষা করিলে অপর দিকও অসত্য হইয় উঠে ঈশ্বরের আদেশ পালনকে যে অস্বীকার করে, সে মুখে যাহাই বলুক ঈশ্বরকে সম্পূর্ণ স্বীকার করে না। বরঞ্চ ঈশ্বরকে মুখে অস্বীকার করিয়া যে ব্যক্তি ময়ূন্যের প্রতি কৰ্ত্তব্যাঙ্গুষ্ঠান করে, সে কঠিন কৰ্ম্মের দ্বারা ঈশ্বরকে স্বীকার করিয়া থাকে । জ্ঞানে এবং ভোগে এবং কৰ্ম্মে ব্রহ্মকে স্বীকার করিলেই তাহাকে সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করা হয় । সেইরূপ সৰ্ব্বাঙ্গীনভাবে ব্রহ্মকে উপলব্ধি করিবার একমাত্র স্থান এই সংসার—আমাদের এই কৰ্ম্মক্ষেত্র ; ইহাই আমাদের ধৰ্ম্মক্ষেত্র, ইহাই ব্রহ্মের মন্দির । এখানে জগৎমগুলের জ্ঞানে ঈশ্বরের জ্ঞান, জগৎসৌন্দর্য্যের ভোগে ঈশ্বরের ভোগ এবং জগৎসংসারের কৰ্ম্মে ঈশ্বরের কৰ্ম্ম জড়িত রহিয়াছে –সংসারের সেই জ্ঞান সৌন্দৰ্য্য ও ক্রিয়াকে ব্রহ্মের দ্বার বেষ্টিত করিয়া জানিলেই ব্রহ্মকে অন্তরতর করিয়া জানা যায় এবং সংসারযাত্রাও কল্যাণকর হইয়া উঠে । তখন ত্যাগ এবং ভোগের সামঞ্জস্য হয়, কাহারও ধনে লোভ থাকে না, অনর্থক বলিয়া জীবনের প্রতি উপেক্ষা জন্মে না, শতবর্ষ আয়ু যাপন করিলেও পরমায়ুর সার্থকতা উপলব্ধি হয়—এবং সেই অবস্থায় যস্ত সৰ্ব্বাণি ভূতানি আত্মন্তেবায়ুপশুতি, সৰ্ব্বভূতেষু চাত্মানাং ততো ন বিজুগুপাতে। যিনি সমস্ত ভূতকে পরমাত্মার মধ্যে দেখেন, এবং সৰ্ব্ব ভূতের মধ্যে পরমাত্মাকে দেখেন, তিনি কাহাকেও ঘৃণা করেন না । গম্যস্থানের পক্ষে পথ যেমন একই কালে পরিহার্য্য এবং অবলম্বনীয় ব্ৰহ্মলাভের পক্ষে সংসার সেইরূপ । পথকে যেমন আমরা প্রতিপদে পরিত্যাগ করি এবং আশ্রয় করি, সংসারও সেইরূপ আমাদের প্রতিপদে বর্জনীয় এবং গ্রহণীয়। পথ নাই বলিয়া চক্ষু মুদিয়া পথপ্রাস্তে পড়িয়া স্বপ্ন দেখিলে গৃহ লাভ হয় না—এবং পথকেই শেষ লক্ষ্য বলিয়া বসিয়া থাকিলে গৃহে গমন ঘটে না । গম্যস্থানকে যে ভালবাসে, পথকেও সে ভালবাসে —পথ গম্যস্থানেরই অঙ্গ, অংশ এবং আরম্ভ বলিয়া গণ্য । ব্রহ্মকে যে চায়, ব্রহ্মের সংসারকে সে উপেক্ষা করিতে পারে না—সংসারকে সে প্রীতি করে এবং সংসারের কৰ্ম্মকে ব্রহ্মের কৰ্ম্ম বলিয়াই জানে । আৰ্য্যধৰ্ম্মের বিশুদ্ধ আদর্শ হইতে র্যাহারা ভ্ৰষ্ট হইয়াছেন তাহারা বলিবেন সংসারের সহিত যদি ব্রহ্মের যোগ সাধন করিতে হয় তবে ব্রহ্মকে সংসারের উপযোগী করিয়া গড়িয়া লইতে হইবে । তাই যদি হইল তবে সত্যের প্রয়োজন কি ? সংসার ত অাছেই—কাল্পনিক স্বষ্টির দ্বারা সেই সংসারেরই আয়তন বিস্তার করিয়া লাভ কি ? আমরা অসৎ সংসারে আছি বলিয়াই আমাদের সত্যের প্রয়োজন—আমরা সংসারী