পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


.# h M i * ዄ مه * | | o ',' f איין f ! | ওঁ একটি ধ্বনিমাত্র—তাহার কোন বিশেষ নির্দিষ্ট অর্থ নাই। সেই ওঁ শৰে ত্রন্ধের ধারণাকে কোন অংশেই সীমাবদ্ধ করে না—সাধনা দ্বারা আমরা ব্ৰহ্মকে যত দূর জানিয়াছি যেমন করিয়াই পাইয়াছি এই ওঁ শব্দে তাহ সমস্তই ব্যক্ত করে—এবং ব্যক্ত করিয়াও সেইখানেই রেখা টানিয়া দেয় না । সঙ্গীতের স্বর যেমন গানের কথার মধ্যে একটি অনিৰ্ব্বচনীয়তার সঞ্চার করে তেমনি ওঁ শব্দের পরিপূর্ণ ধ্বনি আমাদের ব্ৰহ্মধ্যানের মধ্যে একটি অনিৰ্ব্বচনীয়তা অবতারণা করিয়া থাকে । বাহ প্রতিমা দ্বারা আমাদের মানস ভাবকে খৰ্ব্ব ও আবদ্ধ করে—কিন্তু এই ওঁ ধ্বনির দ্বারা আমাদের মনের ভাবকে উন্মুক্ত ও পরিব্যাপ্ত করিয়া দেয় । সেই জন্য উপনিষদ বলিয়াছেন—ওমিতি ব্ৰহ্ম । ওম্বলিতে ব্ৰহ্ম বুঝায়। ওমিতাদং সৰ্ব্বং, এই যাহা কিছু সমস্তই ওঁ ! ওঁ শব্দ সমস্তকেই সমাচ্ছন্ন করিয়া দেয় । অর্থবন্ধনহীন কেবল একটি সুগম্ভীর ধ্বনিরূপে ওঁ শব্দ ব্রহ্মকে নির্দেশ করিতেছে । আবার ওঁ শব্দের একটি অর্থও আছে—সে অর্থ এত উদার যে তাহা মনকে আশ্রয় দান করে অথচ কোন সীমায় বদ্ধ করে না । আধুনিক সমস্ত ভারতবর্ষীয় আৰ্য্য ভাষায় যেখানে আমরা ই বলিয়া থাকি প্রাচীন সংস্কৃত ভাষায় সেইখানে ওঁ শব্দের প্রয়োগ । হা শব্দ ওঁ শব্দেরই রূপান্তর বলিয়া সহজেই অনুমিত হয়। উপনিষদও বলিতেছেন ওমিত্যেতা অমুকুতিৰ্হস্ম—ওঁ শব্দ অমুকুতিবাচক, অর্থাৎ ইহা কর বলিলে, ওঁ অর্থাং হুঁ বলিয়া সেই আদেশের অনুকরণ করা হইয়া থাকে । ওঁ স্বীকারোক্তি । এই স্বীকারোক্তি ওঁ, ব্রহ্ম-নির্দেশক শব্দরূপে গণ্য হইয়াছে। ব্রহ্মধ্যানের কেবল এইটুকু মাত্র অবলম্বন—ওঁ, তিনি হা। ইংরাজ মনীষী কালাইলও তাহাকে Everlasting Yay অর্থাং শাশ্বত ওঁ বলিয়াছেন। এমন প্রবল পরিপূর্ণ কথা আর কিছুই নাই, তিনি হা, ব্ৰহ্ম ওঁ । " . আমরা কে কাহাকে স্বীকার করি সেই বুঝিয়া আত্মার মহত্ব। কেহ জগতের মধ্যে একমাত্র ধনকেই স্বীকার করে, কেহ মানকে, কেহ খ্যাতিকে । আদিম আৰ্য্যগণ ইন্দ্র চন্দ্র বরুণকে ওঁ বলিয়া স্বীকার করিতেন, সেই দেবতার অস্তিত্বই তাহাদের নিকট সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ বলিয়া প্রতিভাত হইত। উপনিষদের ঋষিগণ বলিলেন জগতে ও জগতের বাহিরে ব্রহ্মই একমাত্র ওঁ, তিনিই চিরন্তন ই, তিনিই Everlasting Yay ৷ আমাদের আত্মার মধ্যে তিনি ওঁ, তিনিই স্থা,—বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে তিনি ওঁ, তিনিই ই, এবং বিশ্বব্রহ্মাগু দেশ-কালকে অতিক্রম করিয়া তিনি ওঁ, তিনিই স্থা। এই মহৎ নিত্য এবং সৰ্ব্বব্যাপী যে ই, ওঁ ধ্বনি ইহাকেই নির্দেশ করিতেছে। প্রাচীন ভারতে