পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আলোচনা ৷ 업 তারি মধ্যে বাধা আছে অনস্ত আকাশ— কে আছে, কে পারে তারে আয়ত্ত করিতে ! বড় ছোট কিছু নাই, সকলি মহৎ ।” যাহা বলিলাম তাহা কিছুই বুঝা গেল না, কেবল কতকগুলা কথা কহা গেল মাত্র । কিন্তু কোন কথাটাই বা সত্য ! বালুক সম্বন্ধে যে কথাই বলা হইয়া থাকে, তাহাতে বালুকার যথার্থ স্বরূপ কিছুই বুঝা যায় না, একটা কথা মুখস্থ করিয়া রাখা যায়। ইহাতেও কিছু ভাল বুঝা গেল না, কেবল একটা বুঝিবার প্রয়াস প্রকাশ পাইল মাত্র । বিজ্ঞ লোকেরা তিরস্কার করিয়া বলিবেন, যাহা বুঝা যায় না, তাহার জন্য এত প্রয়াসই বা কেন ! কিন্তু তাহারা কোথাকার কে ! তাহাদের কথা শোনে কে ! র্তাহার কোন দিন ঝরণাকে তিরস্কার করিতে যাইবেন, সে উপর হইতে নীচে পড়ে কেন ! কোন দিন ধোয়ার প্রতি আইনজারি করিবেন সে যেন নীচে হইতে উপরে না ওঠে । ডুবিবার ক্ষমতা। যাহা হউক আর কিছু বুঝি না-বুঝি এটা বোঝা যায় জগতের সর্বত্রই অতল সমুদ্র । মহিষের মত পাকে গা ডুবাইয়া নাকটুকু জলের উপরে বাহির করিয়া জগতের তলা পাইয়াছি বলিয়া যে নিশ্চিন্ত ভাবে জড়ের মত নিদ্রা দিব তাহার যো নাই । এক এক জন লোক আছেন তাহাদের কিছুই যথেষ্ট মনে হয় না—খানিকট গিয়াই সমস্ত শেষ হইয়া যায় ও বলিয় উঠেন, এই বইত নয় ! এই ক্ষুত্রেরা মনে করেন, জগতের সৰ্ব্বত্রই তাহাদের হাটুজল, ডুবজল কোন খানেই নাই। জগতের সকলেরই উপরে ইহার মাথা তুলিয়া আছেন—ঐ অভিমানী মাথাটা সবম্বন্ধ ডুবাইয়া দিতে পারেন, এমন স্থান পাইতেছেন না ! অস্থির হইয়া চারিদিকে অন্বেষণ করিয়া বেড়াইতেছেন। ইহারা যে জগতের অসম্পূর্ণতা ও নিজের মহত্ব লইয়া গৰ্ব্ব করিতেছেন ইহাদের গৰ্ব্ব ঘুচিয়া যায় যদি জানিতে পারেন ডুব দিবার ক্ষমতা ও অধিকার সকলের নাই। বিশেষ গৌরব থাকা চাই তবে মগ্ন হইতে পারিবে । সোলা যখন জলের চারিদিকে অসন্তুষ্ট ভাবে ভাসিয়া বেড়ায় তখন কি মনে করিতে হইবে কোথাও তাহার ডুব দিবার উপযোগী স্থান নাই! সে তাই মনে করুক কিন্তু জলের গভীরতা তাহাতে কমিবে না। "জাখি মুদে জগতেরে বাহিরে ফেলিয়া, অসীমের.অন্বেষণে কোথা গিয়েছিন্থ ।”