পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sఅ রবীন্দ্র-রচনাবলী মনের মধ্যে যে জিনিষটা দেখিতে পাইব, আর-একজন ব্যক্তি ট্রী বলিয়া একটা আওয়াজ না শুনিলে ঠিক সে জিনিষটা মনে আনিতে পারিবে না। অতএব দেখা যাইতেছে অক্ষর ও ভাষা তুমি ঘরে গড়িয়া বন্দোবস্ত করিয়া বদল করিতে পার, কিন্তু তাহারি আশ্রিত ভাবটিকে খেয়াল অনুসারে বদল করা যায় না, তাহা ধ্রুব । জগৎকে যে আমাদের মিথ্যা বলিয়া মনে হইতেছে, তাহার কারণ কি এমন হইতে পারে না যে, জগতের বর্ণপরিচয় আমাদের কিছুই হয় নাই ! জগতের প্রত্যেক অক্ষর আঁচড়ের আকারে সুতরাং মিথ্যা আকারে আমাদের চোখে পড়িতেছে । যখন আমরা বাস্তবিক জগৎকে পড়িতে পারিব তখন এ জগৎকে দেখিতে পাইব না। এ পড়া কি এক দিনে শেষ হইবে । এ বর্ণমালা কি সামান্ত ! এ জগৎ মিথ্যা নয় বুঝি সত্য হবে, অক্ষর আকারে শুধু লিখিত রয়েছে। অসীম হতেছে ব্যক্ত সীমা রূপ ধরি ! প্রেমের শিক্ষা। কিন্তু কে পড়াইবে! কে বুঝাইয়া দিবে যে জগং কেবল স্ত,পাকুতি কতকগুলো বস্তু নহে, উহার মধ্যে ভাব বিরাজমান ? আর কেহ নহে প্রেম । জগৎকে যে যথার্থ ভালবাসে সে কখন মনে করিতেও পারে না, জগৎ একটা নিরর্থক জড়পিণ্ড । সে ইহারই মধ্যে অসীমের ও চিরজীবনের আভাস দেখিতে পায়। পূৰ্ব্বে বলা হইয়াছে প্রেমেই যথার্থ স্বাধীনতা । কারণ যতটা দেখা যায় প্রেমে তার চেয়ে ঢের বেশী দেখাইয়া দেয় ! জগৎকে কখন মিথ্যা মনে করিতে পারি না, যখন জগৎকে ভালবাসি ! একজন যে-সে লোক মরিয়া গেলে আমরা সহজেই মনে করিতে পারি যে, এ লোকটা একেবারে ধ্বংস হইয়া গেল, কারণ সে আমার নিকট এত ক্ষুদ্ৰ ! কিন্তু একজন প্রিয় ব্যক্তির মরণে আমাদের মনে হয় এ কখনো মরিতে পারে না । কারণ তাহার মধ্যে আমরা অসীমতা দেখিতে পাইয়াছি। যাহাকে এত বেশী ভাল বাসিয়াছি সে কি একেবারে “নাই” হইয়া যাইতে পারে । সে ত কম লোক নয় ! তাহাকে যতখানি হৃদয় দিয়াছি ততখানিই সে গ্রহণ করিয়াছে, তাহার উপরে যতই আশা স্থাপন করিয়াছি ততই আশা ফুরায় নি, রজ্জ্ববদ্ধ লৌহখণ্ডের মত আমার সমস্তটা তাহার মধ্যে ফেলিয়া মাপিতে চেষ্টা করিয়াছি, তাহার তল পাই নাই। যাহার নিকট হইতে সীমা যতদূরে