পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আলোচনা રજે করিতেছে, সে ততই সৌন্দৰ্য্য উপভোগ করিতে পারে। সৌন্দর্য্যের সহিত তাহার নিজের ঐক্য ততই সে বুঝিতে পারে, ও ততই সে আনন্দ লাভ করে । আমি যে ফুল এত ভালবাসি তাহার কারণ আর কিছু নয়, ফুলের সহিত আমার হৃদয়ের গৃঢ় একটি ঐক্য আছে—আমার মনে হয় ও একই কথা, যে সৌন্দৰ্য ফুল হইয়া ফুটিয়াছে, সেই সৌন্দৰ্য্যই অবস্থাভেদে আমার হৃদয় হইয়া বিকশিত হইয়াছে ; সেই জন্য ফুলও আমার হৃদয় চাহিতেছে, আমিও ফুলকে আমার হৃদয়ের মধ্যে চাহিতেছি । মনের মধ্যে একটি বিলাপ উঠিতেছে যে, আমরা এক পরিবারের লোক, তবে কেন অবস্থান্তর নামক দেয়ালের আড়ালে পর হইয়া বাস করিতেছি ; কেন পরস্পরকে সৰ্ব্বতোভাবে পাইতেছি না ? সুদূর ঐক্য। সৌন্দর্য্যের ঐক্য দেখিয়াই বিক্টর হুগো গান গাহিতেছেন। মহীয়সী মহিমার আগ্নেয় কুসুম স্বৰ্য্য ধায় লভিবারে বিশ্রামের ঘুম । ভাঙ্গা এক ভিত্তি পরে ফুল শুভ্রবাস, চারিদিকে শুভ্রদল করিয়া বিকাশ মাথা তুলে চেয়ে দেখে স্বনীল বিমানে অমর আলোকময় তপনের পানে ; ছোট মাথা দুলাইয়া কহে ফুল গাছে, “লাবণ্য-কিরণ-ছটা আমারে ত আছে !” "লক্ষাস্তরেহর্কশ্চ জলেষু পদ্মঃ” ইহাদের মধ্যেও ঐক্য ! সুন্দর সুন্দর করে। স্বন্দর আপনি সুন্দর এবং অন্তকে স্বন্দর করে। কারণ, সৌন্দর্ষ্য হৃদয়ে প্রেম জাগ্রত করিয়া দেয়, এবং প্রেমই মানুষকে স্বন্দর করিয়া তুলে। শারীরিক সৌন্দৰ্য্যও প্রেমে যেমন দীপ্তি পায় এমন আর কিছুতে না । মানুষের মিলনে যেমন প্রেম আছে, পশুদের মিলনে তেমন প্রেম নাই, এই জন্য বোধ করি, পশুদের অপেক্ষা মানুষের সৌন্দর্ঘ্য পরিস্ফুটতর। যে মানুষ ও যে জাতি পাশব, নিষ্ঠুর, হৃদয়হীন, সে মাহুষের ও