পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৫৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Qミ8 রবীন্দ্র-রচনাবলী এইগুলি না থাকিলে সমস্ত ছায়াময় স্থান কৃষ্ণবর্ণ হইত। ধূলিকণা অব্যবহিত স্বৰ্য্যালোকের প্রখরতা হ্রাস করে, কারণ তাহা না থাকিলে, কৃষ্ণবর্ণ আকাশে সুর্য্য দুৰ্দশতর উজ্জ্বলতা লাভ করিত এবং সেই আকাশে দিবাভাগেও নক্ষত্রেরা দৃশ্যমান হইত। আকাশের নীলিমা এবং স্বৰ্য্যাস্ত ও সুৰ্য্যোদয়কালীন মহাপ্রভ বর্ণসমূহের হেতু তাহারাই। ঐ ধূলিকণাকে বায়ুমধ্যস্থ জলীয় বাষ্প আবৃত করে, তাহার সংহতি মেঘ উৎপাদন করে ও তাহা হইতে বৃষ্টি হয়। অতএব বৃষ্টি-উৎপাদন সম্বন্ধে ধূলি অবশ্যপ্রয়োজনীয় না হইলেও, একটি প্রধান উপাদান বটে। ૨ X এইরূপ কথিত যে, নিউইয়র্ক-সমাজে ভাজা কুমীর সর্বাপেক্ষ অধুনাতন স্থখাদ্য বলিয়া প্রচলিত হইয়াছে। এই সরীস্বপকে খাদ্যরূপে ব্যবহারের প্রস্তাব ইতঃপূর্বেই য়ুনাইটেড ষ্টেটুসের মনোযোগ আকর্ষণ করিয়াছিল ; এবং একটি বৃহৎ বোডিংগৃহের সভোরা একত্র মিলিয়া চাদ করিয়া, এক জোড়া অল্প বয়সের কুম্ভীর কোনো একটি কুম্ভীরপালন-শালা হইতে কিনিয়াছিল ও দেখিয়াছিল তাহা অত্যন্ত উত্তম । কিন্তু কুমীরের মাংস কিসের মতো খাইতে লাগে, ইহা যখন তাহারা বাহির করিতে চেষ্টা করিল, তখন মুস্কিল বাধিল । ত্ৰিশ জন লোক ভোজে যোগ দিয়াছিল এবং তাহাদের প্রত্যেকের মত স্বতন্ত্র হইল। কেহ মনে করিল শূকর-মাংসের সহিত ইহার সাদৃত আছে ; কেহ ভাবিল, ইহা মাছের মতে, একজন বলিল, ইহা চিংড়ির কথা মনে করাইয়া দেয় ; কিন্তু সকলেই বলিল, ইহা অত্যন্ত মুখরোচক । २२ ধৰ্ম্মমঠগুলি সকলেরই পক্ষে খোলা । যে-কোনো অজানা লোক মঠের মধ্যে প্রবেশ করিয়া আশ্রয় লইতে পারে । সন্ন্যাসীরা সকল সময়েই আতিথ্যপরায়ণ । বোধ করি, আমার ব্রহ্মদেশে বাসের সিকিভাগ আমি মঠে কিংবা তৎসংলগ্ন ধৰ্ম্মশালায় কাটাইয়াছি। আমরা তাহাদের সকল নিয়মই লঙ্ঘন করি ; আমরা মঠের পবিত্র অবরোধের মধ্যেই ঘোড়ায় চড়ি এবং বুট পড়িয়া বেড়াই ; যেখানে সকল জীবের প্রাণ রক্ষা করা হয়, সেখানে আমাদের ভূত্যেরা আমাদের ডিনারের জন্য মুর্গি মারে ; সমস্ত প্রাচ্যদের প্রতি আমাদের যেরূপ আচরণ, স্বজাতি কর্তৃক পূজিত এই ধৰ্ম্মাচাৰ্য্যদের প্রতি আমরা অনেকটা সেইরূপ উপেক্ষাপূর্ণ অবিনীত ব্যবহার করিয়া থাকি ; আমরা