পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৫৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Qミや রবীন্দ্র-রচনাবলী চলিয়াছিল ; অবশেষে আরবেরা উভয়ের নিকট হইতে ইহা জিতিয়া লয়।” ঐ গ্রন্থকারই দেখাইয়া দিয়াছেন যে, নবম খৃষ্টশতাব্দীতে হারুন-অলরশীদকে ইজিপ্ট যত বেশি খাজনা দিত, উত্তর মেসোপোটেমিয়া তত বেশি খাজনাই দিত, এবং সেখানকার তুলা পৃথিবীর সকল হাটে প্রাধান্ত লাভ করিয়াছিল। ইহা স্ববিদিত যে, আমাদের মসলিন শব্দ উত্তর মেসোপোটেমিয়ার মোসল নগরের নাম হইতে উদ্ভূত। ૨ (t এই ভূমি দশ শতাব্দী পূৰ্ব্বে যেরূপ শস্য উৎপাদন করিয়াছে, এখন সেরূপ না করিবে কেন ? মাটি এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে নাই। বৃষ্টিপাত এবং সেচনযোগ্য জল পুরাতন কালের মতোই প্রচুর আছে। তখন যে জনসমূহ দেশে বাস করিত, এখনও তাহারাই বাস করে ; ইহারাও তাহাদের মতে শ্রমশীল এবং মিতব্যয়ী। প্রাচ্যদেশের সুন্দরতম শস্যভূমিতে গত চারি শতাব্দী কেন এমন সৰ্ব্বনাশ আনয়ন করিল ? উত্তর হইতে দক্ষিণ, পূৰ্ব্ব হইতে পশ্চিম, সৰ্ব্বত্রই এই দেশে চাষীর মহা সুযোগ ; অথচ এই ভূমির অধিকাংশই অনাবাদী অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। জল-সংগ্রহের জন্য জলাশয় এবং অন্য যে সকল সেচন-ব্যবস্থার উপকরণ এই মরুময় একর গুলিকে শস্যপ্রস্থ ক্ষেত্রে পরিণত করিতে পারিত, তাহ নিৰ্ম্মিত হয় নাই । অত্যন্ত আদিমকাল প্রচলিত কৃষিপ্রণালী এখনও এখানে ব্যবহৃত হয় ; বাইবেলকথিত কালের সেই বলদ-বাহিত লাঙল, সেই কাস্তে দিয়া বড়ো বড়ো ক্ষেতের ফসল কাটা, সেই ফসল মাড়াই করিবার মেঝে যেখানে পশুদের খুরের দ্বারা গোধূম দলিত হয়, সেই ক্লেশদায়ক মন্থর গতি হাতের খাটুনি, সেও এমনতরো অনিপুণ যন্ত্র সহযোগে, যে যন্ত্রে প্রয়াস-প্রয়োগের অনুপাতে ফললাভ সৰ্ব্বাপেক্ষ স্বল্প । პ ჯ) মেরুপ্রদেশের চুক্চিসগণ যদিও প্রকৃতির শিশু এবং সভ্যতার সকলপ্রকার প্রভাব হইতে সম্পূর্ণ মুক্তভাবে বরফ, তুষার এবং শীতের মধ্যে বৰ্দ্ধিত, তথাপি তাহারা ভালোমাতুষ, অবঞ্চক-স্বভাব এবং আতিথ্যপরায়ণ । যদিও দীর্ঘ শীতকাল ধরিয়া প্রত্যহই অন্তত কুড়ি জন করিয়া মেরুবাসী ভেগা জাহাজ দেখিতে আসিত, কিন্তু দুই তিনবার-মাত্র তাহারা অসদুপায়ে কিছু আত্মসাৎ করিবার অপরাধে ধরা পড়িয়াছিল এবং ঐ চৌর্য্যগুলিও অতিসামান্য প্রকারের।