পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৭১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী وا نئولم ভ্রাতৃপ্রতি রাজার দায়িত্ব সম্বন্ধে গোবিন্দমাণিক্য নক্ষত্ররায়কে কী বুঝাইলেন । রাজনারায়ণ বস্থ, রাজেন্দ্রলাল ও বঙ্কিমচন্দ্রের চরিত্রবর্ণনা যতটুকু পড়িয়াছ তাহার ব্যাখ্যা নিজের ভাষায় করে । খোকাবাবু যেটুকু না রাখিলে নয় সেইটুকুমাত্র রাখিয়া খোকাবাবু গল্পটিকে সংক্ষিপ্ত করো। একটুকু নমুনা দেখাই :– রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। বাবুদের এক বৎসর বয়স্ক একটি শিশুর পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল। সেই শিশুটি কালক্রমে অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্সেফিতে প্রবেশ করিয়াছেন। অমুকুলের একটি পুত্রসস্তান জন্মলাভ করিয়াছে এবং রাইচরণ তাহাকে সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করিয়া লইয়াছে। তাহাকে সে দুই বেলা হাওয়া খাওয়াইতে লইয়া যাইত। বর্ষাকাল আসিল । রাইচরণের খামখেয়ালি ক্ষুদ্র প্রভু কিছুতেই ঘরে থাকিতে চাহিল না। গাড়ির উপর চড়িয়া বসিল । রাইচরণ ধীরে ধীরে গাড়ি ঠেলিয়া নদীর তীরে আসিয়া উপস্থিত হইল। শিশু সহসা এক দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া বলিল, “চন্ন ফু।" অনতিদূরে একটি কদম্ববৃক্ষের উচ্চশাখায় কদম্ব ফুল ফুটিয়া ছিল, সেইদিকে শিশুর লুব্ধ দৃষ্টি আকৃষ্ট হইয়াছিল। রাইচরণ বলিল, “তবে তুমি গাড়িতে বসে থাকে, আমি চট ক’রে ফুল তুলে আনছি।” কিন্তু শিশুর মন সেই মুহূর্তে ই জলের দিকে ধাবিত হইল । জলের ধারে গেল। একটা দীর্ঘ তৃণ কুড়াইয়া লইয়া তাহাকে ছিপ কল্পনা করিয়া ঝু কিয়া মাছ ধরিতে লাগিল । রাইচরণ গাছ হইতে নামিয়া গাড়ির কাছে আসিয়া দেখিল কেহ নাই । এইরূপে সংক্ষেপ করিয়া সমস্ত গল্পটি সম্পূর্ণ করে। মেল৷ মেলার উদ্দেশ্য এই যে আপন সংকীর্ণ পরিবেষ্টনের বাহিরে পল্লীর মনকে প্রসারিত করা। কী উপায়ে মেলা আধুনিক কালের উপযোগী হইতে পারে সে সম্বন্ধে লেখকের মত নিজের ভাষায় প্রকাশ করে । এই মেলাগুলির উৎকর্ষ সাধনকল্পে জমিদারদের কর্তব্য কী । আলোচ্য বিষয়টি সম্বন্ধে তোমার নিজের যদি বিশেষ বক্তব্য থাকে তবে তাহা ব্যক্ত করো।