পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমালোচনা や> যদি আমরা অতীতকে হারাই তবে আমরা কতখানি হারাই ! আমাদের কতটুকু প্রাণ থাকে ! একটি নিমেষ মাত্র লইয়া কিসের মুখ ! আমাদের জীবন যদি কতকগুলি বিচ্ছিন্ন জলবিম্ব মাত্র হয়, তবে তাহা অত্যন্ত দুৰ্ব্বল জীবন । কিন্তু আমাদের জীবনের জন্মশিখর হইতে আরম্ভ করিয়া সাগরসঙ্গম পৰ্য্যস্ত যদি যোগ থাকে তবে তাহার কত বল! তবে তাহ পাষাণের বাধা মানিবে না, কথায় কথায় রৌদ্রতাপে শুকাইয়া বাষ্প হইয়া যাইবে না। আমি কিছু পরগাছা নহি, গাছ হইতে গাছে ঝুলিয়া বেড়াই না। বাহিরের রৌদ্র, বাহিরের বাতাস, বাহিরের বৃষ্টি আমি ভোগ করিতেছি, কিন্তু মাটির ভিতরে ভিতরে প্রসারিত আমার অতীতের উপর আমি দাড়াইয়া আছি । আমার অতীতের মধ্যে আমার কতকগুলি তীর্থস্থান প্রতিষ্ঠিত আছে, যখন বর্তমানে পাপে তাপে শোকে কাতর হইয়া পড়ি তখন সেই তীর্থস্থানে গমন করি, সরল বাল্যকালের সমীরণ ভোগ করি, নবজীবনের প্রথম সঙ্কল্প, মহৎ উদ্দেশু, তরুণ আশাসকল পুনরায় দেখিতে পাই । আমার এ অতীতের পথ যদি মুছিয়া যাইত, তাহ হইলে আজ আমি কি হইতাম ! একটি জরাজীর্ণ কঠোরহৃদয় অবিশ্বাসী বিদ্রুপপরায়ণ বৃদ্ধ হইয়া উদাসনেত্রে সংসারের দিকে চাহিয়া থাকিতাম । এই জন্যই আমি এই সকল অতিশয় তুচ্ছ দ্রব্যগুলিকে, অতীত কালের অতি সামান্য চিহ্নটুকুকেও যত্ব করিয়া রাখিয়াছি ; অত্যধিক জ্ঞান লাভ করিয়া, কুসংস্কারের অত্যন্ত অভাবে সেগুলিকে অনাবশ্বক বোধে ফেলিয়া দিই নাই । তাকিক । কেহ কেহ বলেন, যাহাদের সঙ্গে মতের মিল নাই, প্রতি কথায় যুক্তির লাঠালাঠি চলে, তর্কবিতর্ক না করিয়া যাহারা এক পা অগ্রসর হইতে দেন না, তাহাদের সহবাসে উপকার আছে। তাহাদের উৎপাতে কাচা কথা বলিবার যে থাকে না, দুৰ্ব্বল মত ত্ৰাহি ত্ৰাহি করিতে থাকে, খুব খাটি মত না হইলে টিকিতে পারে না। বুদ্ধিরাজ্যে Survival of the Fittest নিয়ম খুব ভালরূপে বজায় থাকে। এ কথাটা আমার ত ঠিক মনে হয় না। আমাদের কোন ভাব অহিরাবণের মত একেবারে জন্সিয়াই কিছু যুদ্ধ আরম্ভ করিতে পারে না। কিছু দিন ধরিয়া প্রশংসা, বন্ধুদিগের মমতা ও অমুকুল যুক্তির