পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী . ولماوا) বলিয়াছি জঙ্কি-এক সময়ে তাহার বিপরীত কথা বলি ; সে কথাটা ঠিক। কিন্তু তাহার একটা কারণ আছে। আমি যাহা বলি, তাহা প্রাণের ভিতর হইতে বলি, যুক্তি অযুক্তি খতাইয়া হিসাবপত্র করিয়া বলি না। আমি যাহার কথা বলি, মমতার প্রভাবে তাহার সহিত একবারে মিশাইয়া যাই, সুতরাং কেবল মাত্র তাহার কথাই বলি, তাহার উণ্টা দিকের কথাটা বলি না। প্রকৃতিতেও তাঁহাই হয়। প্রকৃতির দিন প্রকৃতির রাত্রের বিপরীত কথা বলিয়া থাকে, প্রকৃতির পূর্বদিক প্রকৃতির পশ্চিমদিকের কথা বলে না। প্রকৃতির পদে পদে বিরোধী উক্তি দেখিতে পাওয়া যায়, কিন্তু তাহারা কি বাস্তবিকই বিরোধী ? তাহারা দুই বিপরীত সত্য । আমি আলো হইয়া আলোর কথা বলি, অন্ধকার হইয়া অন্ধকারের কথা বলি। আমার দুটা কথাই সত্য। আমি কিছু এমন প্রতিজ্ঞা করিয়া বসি নাই যে একেবারে বিরোধী কথা বলিব না ; যে ব্যক্তি কোন কালে বিরোধী কথা বলে নাই তাহার বুদ্ধি ত জড়পদার্থ ; তাহার কোন কথার কোন মূল্য আছে কি ? আমরা যে বিরোধের মধ্যেই বাস করি। আমাদের অন্ত আমাদের কল্যকার বিরোধী, আমাদের বুদ্ধকাল আমাদের বাল্যকালের বিরোধী ; সকালে যাহা সত্য বিকালে তাহা সত্য নহে । এত বিরোধের মধ্যে থাকিয়াও যাহার কথার পরিবর্তন হয় না, যাহার মত অবিরোধে থাকে, তাহার বুদ্ধিটা ত একটা কলের পুতুল, যত বার দম দিবে তত বার একই নাচন নাচিবে ! উপসংহারে আর গুটিদুই কথা বলিয়া শেষ করি । যে পাড়ার ক্রোশ-তিনেকের মধ্যে তার্কিক লোকের গন্ধ আছে, সেখানে বোধ করি কোন ভাবুক লোক তিষ্ঠিতে পারেন না । বোধ করি, তার্কিক লোকের মুখ দেখিলেই ভাবের বিকাশ বন্ধ হইয়া যায়। অতএব যাহারা ভাবের চর্চা করিতে চান, র্তাহারা কাছাকাছি এমন বন্ধু রাখিবেন র্যাহাদের সহিত মতের মিল আছে। অম্বুরাগের আবহাওয়ার মধ্যে থাকিলে মনের গৃঢ় ক্ষমতাগুলি যেমন সতেজে মাটি ফুড়িয়া উঠে, এমন আর কোথাও নয় । একটা গাছে কতশত বীজ জন্মে। তাহার মধ্যে সবগুলা কিছু গাছ হয় না। কিন্তু গুটিকত গাছ জন্মাইবার উদ্দেশে বিস্তর নিষ্ফল বীজ জন্মান আবশ্যক । আমাদেরো সকল ভাব কিছু সফল হইবে না। কিন্তু ভাবের প্রচুরতা আবশ্বক। গোটাকতক থাকিবে, অনেকগুলি মরিবে । কিন্তু প্রতিকূলতার প্রথর প্রভাবে যদি ভাবের বিকাশ একেবারেই বন্ধ হয় তবে আর কি হইল ? তাই জিজ্ঞাসা করিতেছি সাহিত্যে প্রতিকূল সমালোচনা কি ভাল ? ভাল বইয়ের ভাল সমালোচনা ভাল, কুরুচি-বিকাশক হানিজনক বইয়ের নিন্দ করাও দোষের নহে,