পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) প্রথম খণ্ড.pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কবি-কাহিনী একাকী পাখীর সাথে গাইতে কি গীত তাই শুনি যেন তার ভাঙ্গিত গো ঘুম ! অনন্ত-তারা-খচিত নিশীথগগনে বসিয়া গাইতে তুমি কি গভীর গান, তাহাই শুনিয়া যেন বিহবলহৃদয়ে নীরবে আকাশ পানে রহিত চাহিয়া । নীরব নিশীথে যবে একাকী রাখাল স্বদূর কুটীরতলে বাজাইত বাণী তুমিও তাহার সাথে মিলাইতে ধ্বনি, সে ধ্বনি পশিত তার প্রাণের ভিতর । নিশার সাধার-কোলে জগৎ যখন দিবসের পরিশ্রমে পড়িত ঘুমায়ে তখন সে কবি উঠি তুষারমণ্ডিত সমুচ্চ পৰ্ব্বতশিরে গাইত একাকী প্রকৃতিবন্দনাগান মেঘের মাঝারে । সে গম্ভীর গান তার কেহ শুনিত না, কেবল আকাশব্যাপী স্তব্ধ তারকারা এক দৃষ্ট্রে মুখপানে রহিত চাহিয়া । কেবল, পৰ্ব্বতশৃঙ্গ করিয়া আঁধার, সরল পাদপরাজি নিস্তব্ধ গম্ভীর ধীরে ধীরে শুনিত গে। তাহার সে গান ; কেবল স্বদুর বনে দিগম্ভবালার হৃদয়ে সে গান পশি প্রতিধ্বনিরূপে মৃদুতয় হোয়ে পুন আসিত ফিরিয়া । কেবল স্বদূর শৃঙ্গে নিঝরিণী বালা সে গভীর গীতি-সাথে কণ্ঠ মিশাইত, নীরবে তটিনী যেত সমুখে বহিয়া, নীরবে নিশীথবায়ু কাপাত পল্লব। গম্ভীরে গাইত কবি– “হে মহাপ্রকৃতি, কি স্বন্দর, কি মহান মুখশ্ৰী তোমার,